ডিপিএলে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বোলারদের ওপর রীতিমতো টর্নেডো চালিয়েছেন জাকের আলী অনিক। বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে টি-টোয়েন্টি স্টাইলে এক বিধ্বংসী শতক তুলে নিয়েছেন তিনি। ১০৩ বল ক্রিজে থেকে খেলেছেন ১৩৩ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস।
ওপেনারদের দ্রুত বিদায়ে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে সাথে নিয়ে বিপর্যয় সামাল দেন জাকের। অঙ্কনের ৮১ বলে ৭৪ এবং জাকেরের ৫৫ বলে ৪৮ রানের ওপর ভর করে এই জুটি দলকে এনে দেয় ১৩৬ বলে ১২২ রান। অঙ্কন ফেরার পর অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে সঙ্গী করে ৪৪ বলে ৫৩ রানের আরও একটি কার্যকরী জুটি উপহার দেন তিনি।
তবে ইনিংসের আসল টর্নেডো শুরু হয় এস এম মেহেরব হাসানের সাথে। প্রাইম ব্যাংকের বোলারদের তুলোধুনো করে মেহেরবের ৩৪ বলে ৪২ এবং জাকেরের মাত্র ৩০ বলে ৫৭ রানের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে এই জুটি মাত্র ৬৪ বলে ১০১ রান স্কোরবোর্ডে যোগ করলে ৩৪১ রানের পাহাড়সম পুঁজি গড়ে আবাহনী।

১০৩ বলের ইনিংসে জাকের আলী অনিক সাজিয়েছেন দশটি চার ও নয়টি বিশাল ছক্কার মারে। অর্থাৎ, তাঁর ব্যক্তিগত ১৩৩ রানের মধ্যে ৯৪ রানই এসেছে চার আর ছক্কা থেকে। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের একদম শেষ দিকে এসে এনামুল হকের বলে আরিফুল ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই সেঞ্চুরিয়ান।
কয়েকদিন আগেও বাংলাদেশ জাতীয় দলের তিন ফরম্যাটেই নিয়মিত ও পরিচিত মুখ ছিলেন জাকের আলী অনিক। অথচ ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে এখন তিনি কোনো ফরম্যাটের দলেই নেই।
জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার এই কষ্ট বা আক্ষেপকে যেন মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে জবাব দিচ্ছেন জাকের। চাপের মুখে ঠাণ্ডা মাথায় ইনিংসের শুরু করা, মাঝপথে জুটি গড়া এবং ডেথ ওভারে বাউন্ডারির বন্যা বইয়ে দিয়ে ফিনিশারের ভূমিকা পালন করা – সবকিছুতেই তিনি দেখালেন শতভাগ পরিপক্বতা।












