পাকিস্তান ৭১ নয় শুধু, ৭৮-এও আটকায়

এর পরের ওভারে আবারও তাইজুল ইসলাম। শেষটা রাঙিয়ে দিলেন। শেষ ব্যাটারকে ফিরিয়ে দিলেন। ইনিংসে নিলেন ছয় উইকেট। বাংলাদেশের ৭৮ রানে জয় নিশ্চিত হল। পাকিস্তানকে বাংলাদেশের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন পূরণ হল।

অপেক্ষা ছিল কেবল তিন উইকেটের। সেখানে গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে, তাঁর চেয়েও বেশি ভয় জাগাচ্ছিলেন সাজিদ খান। দু’জন মিলে ৭২ বলে ৫৪ রানের জুটি গড়ে শঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছিলেন।

সিলেটের বুকে মুলতানের সেই দু:স্মৃতি কি ফিরে আসবে? সেই নিয়েই চাপা এক গুঞ্জন ছিল। পাকিস্তান কি বিশ্ব রেকর্ড গড়ে জিততে পারবে? ধারাভাষ্য কক্ষে সেই নিয়ে চলছিল বিস্তর আলোচনা।

তবে, বাংলাদেশের এই টেস্ট দল তো ভিন্ন ধাতুর গড়া। পরাজয়ের আগেই হার মেনে নিতে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। মাত্র তিন ওভারের মধ্যে সব হিসাব নিকাশ গেল পাল্টে।

তাইজুল ইসলামের মোক্ষম একটা ডেলিভারি দিয়ে শুরু। স্লিপে ক্যাচ নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ২৮ রান করে ফিরে গেলেন সাজিদ খান।

পরের ওভারেই তাঁর সঙ্গী হলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ছয় রান দূরে থাকতে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে গালিতে যখন ক্যাচ তুলে দেন, তখন নিশ্চিত হয় যে এই ধরার বুকের কোনো শক্তিই বাংলাদেশের অর্জন আটকাতে পারবে না।

এর পরের ওভারে আবারও তাইজুল ইসলাম। শেষটা রাঙিয়ে দিলেন। শেষ ব্যাটারকে ফিরিয়ে দিলেন। ইনিংসে নিলেন ছয় উইকেট। বাংলাদেশের ৭৮ রানে জয় নিশ্চিত হল। পাকিস্তানকে বাংলাদেশের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন পূরণ হল।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link