২২ বছরের খরা ঘুচিয়ে চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একটা লিগ ট্রফির খোঁজ করছিল উত্তর লন্ডন। অবশেষে সেই সোনালী স্বপ্ন ধরা দিল এমিরেটস স্টেডিয়ামে।

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একটা লিগ ট্রফির খোঁজ করছিল উত্তর লন্ডন। অবশেষে সেই সোনালী স্বপ্ন ধরা দিল এমিরেটস স্টেডিয়ামে। ম্যানচেস্টার সিটির নাটকীয় ড্রয়ের হাত ধরে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মুকুট মাথায় তুলল মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল। ২০০৪ সালে কিংবদন্তি আর্সেন ভেঙ্গারের সেই অপরাজেয় ‘ইনভিন্সিবলস’ যুগের পর গানার্সদের শোকেসে এটাই প্রথম লিগ শিরোপা।

মঙ্গলবার রাতে বোর্নমাউথের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারায় পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি। আর এই সমীকরণই লিগের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। শিরোপার লড়াই শেষ ম্যাচ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখতে সিটির সামনে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না। কিন্তু বোর্নমাউথের ঘরের মাঠে তারা হোঁচট খাওয়ায় গানার্সরা পৌঁছে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

​এর আগে গত সোমবার বার্নলির বিপক্ষে ১-০ গোলের এক ঘর্মাক্ত জয়েই মূলত শিরোপার এক হাত দিয়ে রেখেছিল গানার্সরা। সেই জয়ে সিটির চেয়ে পাঁচ পয়েন্টে এগিয়ে যায় তারা।

আর্সেনালের এই অবিস্মরণীয় সাফল্যে প্রতিপক্ষ কোচ পেপ গার্দিওলাও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তাদের। তিনি বলেন,​’আর্সেনাল, মিকেল, তাদের পুরো স্টাফ এবং সমর্থকদের এই প্রিমিয়ার লিগ জয়ের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন। এই শিরোপা তাদেরই প্রাপ্য।’

​শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথেই এমিরেটস স্টেডিয়ামের চারপাশ রূপ নেয় উৎসবের নগরীতে। ‘ক্যাম্পিওনেস’ (চ্যাম্পিয়ন) গানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। ভক্তদের কণ্ঠে বারবার ফিরে আসে মাস্টারমাইন্ড আর্তেতার নাম।

​আগামী রবিবার ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে মৌসুমের শেষ ম্যাচ খেলবে আর্সেনাল। আর সেই ম্যাচ শেষেই আনুষ্ঠানিকভাবে মিকেল আর্তেতার হাতে তুলে দেওয়া হবে কাঙ্ক্ষিত প্রিমিয়ার লিগের ট্রফিটি।

​তবে গানার্সদের উৎসব এখানেই থামছে না। চলতি মাসের শেষের দিকে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইর (পিএসজি) বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মেগা ফাইনালে মাঠে নামবে তারা। উত্তর লন্ডনের দলটির সামনে এখন সুযোগ রয়েছে ঘরোয়া লিগের সাথে ইউরোপসেরার মুকুট জিতে এক রূপকথার ‘ডাবল’ পূর্ণ করার।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link