পরিসংখ্যান কিংবা ইতিহাস। বিরাট কোহলিই ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটের সর্বসেরা অধিনায়ক। অথচ সেই সাফল্যের চূড়ায় দাঁড়িয়েও ভেতরে ভেতরে পুড়ে খাক হচ্ছিলেন তিনি। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে কেন আচমকা ভারতের টেস্ট অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলেন? দীর্ঘ চার বছর পর সেই নীরবতা ভাঙলেন কিং কোহলি। জানালেন এক নির্মম ও একাকীত্বের আখ্যান।
১৫ জানুয়ারি, ২০২২। দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ হারার ঠিক পরদিনই টেস্ট দলের নেতৃত্ব ছাড়েন কোহলি। এর আগেই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব থেকে তাঁর বিদায় ঘটেছিল। ৬৮ টেস্টে ৪০টি জয় নিয়ে শেষ হয় ভারতের সফলতম অধিনায়কের অধ্যায়।
সম্প্রতি ‘আরসিবি ইনোভেশন ল্যাব’-এর এক অনুষ্ঠানে সেই মানসিক ঝড় নিয়ে মুখ খোলেন বিরাট। তিনি বলেন, ‘ব্যাটিং আর অধিনায়কত্ব – এই দুইয়ের সম্মিলিত বোঝা প্রতিদিন কতটা ভারী হচ্ছিল, তা বুঝিনি। ভারতীয় ক্রিকেটকে শীর্ষে রাখার তাড়নায় নিজের দিকে তাকানোর ফুরসত পাইনি। তাই যখন অধিনায়কত্ব ছাড়ি, ততদিনে আমি ভেতর থেকে সম্পূর্ণ শূন্য।’

২০১৪ সালে ধোনির ইনজুরিতে অ্যাডিলেড টেস্টে প্রথমবার টস করেন কোহলি। জোড়া সেঞ্চুরি করেও সেবার নাটকীয় ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারতে হয়েছিল। তবে দমে যাননি বিরাট। ২০১৫ সালে তাঁর নেতৃত্বেই ২৩ বছর পর শ্রীলঙ্কার মাটিতে ঐতিহাসিক সিরিজ জেতে ভারত।
এরপর কোচ রবি শাস্ত্রীর সাথে মিলে গড়ে তোলেন এক অপরাজেয় সাম্রাজ্য। টানা পাঁচ বছর আইসিসি টেস্ট র্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি জয় – কোহলির হাত ধরেই আসে ভারতের স্বর্ণযুগ।
কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে কোহলি নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছিলেন। নিজের জন্য কোনো সময় ছিল না। তাই একসময় রাজমুকুট সরিয়ে রাখাই তাঁর কাছে সঠিক সিদ্ধান্ত মনে হয়েছিল।

সবশেষে এক বুক হাহাকার নিয়ে কোহলি জানান, অধিনায়কত্বের শেষ দিনগুলোয় যখন তিনি ফেলে আসা দিনগুলোর দিকে তাকান, তখন এক নির্মম সত্য তাঁকে আঘাত করে। দীর্ঘ নয়টি বছর কেটে গেলেও ক্রিকেট মহলের একটিবারের জন্যও কেউ তাঁর কাছে জানতে চায়নি, বিরাট আসলে কেমন আছেন।











