ইনজুরি নাকি মিরাজের মানসিক চাল?

মিরাজের ওই বিরতির পর আর কোনো রান যোগ না করেই শেষ তিন উইকেট হারায় পাকিস্তান।  টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দলকে টানা চার ম্যাচ হারালো বাংলাদেশ। মিরাজ ওই মানসিক চাল না চাললে অসাধ্য সাধন আদৌ করা যেত কি না কে জানে!

সিলেটে ঋষাভ পান্তের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিভাবে? সেটা বুঝতে ফিরে যেতে হবে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে।

দক্ষিণ আফ্রিকার জিততে ৩০ বলে ৩০ রান দরকার। ক্রিজে তখন হেনরিক ক্লাসেন। আগের ওভারেই অক্ষর প্যাটেলকে ২৪ রান তুলে ম্যাচটা প্রায় দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে নিয়ে গেছেন তিনি। ভারত তখন কার্যত দিশেহারা। এর পরের ওভারে এসে জাসপ্রিত বুমরাহ দিলেন মাত্র চার রান। মানে জিততে দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ২৪ বলে ২৬ রান।

ঠিক সেই সময়ই ঋষাভ পান্ত হঠাৎ পায়ে টান ধরার ভঙ্গিতে মাটিতে বসে পড়লেন। ফিজিও এলো। খেলা থেমে রইলো কয়েক মিনিট। দেখতে সাধারণ একটা ইনজুরি বিরতি। কিন্তু টি-টোয়েন্টির মতো গতির খেলায় কয়েক মিনিটের বিরতি মানেই ছন্দে সূক্ষ্ম একটা ফাঁটল।

পরে রোহিত শর্মা নিজেই বলে দিয়েছিলেন, ওই বিরতিটা ছিল অনেকটাই ম্যাচের গতি থামানোর কৌশল। বিরতির পর প্রথম বলেই আউট ক্লাসেন। সেখান থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার আরেকটি বিশ্বকাপ ট্র্যাজেডির শুরু।

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিলেট টেস্টে সেই স্মৃতিই ফিরে এল। পঞ্চম দিনের শুরুতে পাকিস্তানের দরকার তখন ১২১ রান। হাতে মাত্র ৩ উইকেট।

মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সাজিদ খান ধীরে ধীরে ব্যবধান নামিয়ে আনছিলেন। দ্রুত রান তুলছিল পাকিস্তান। একটা সময় জয় থেকে দূরত্ব ছিল মাত্র ৭৯ রানের। ম্যাচে তখন পাকিস্তানই এগিয়ে। বাংলাদেশের দর্শকরা শঙ্কায়। ম্যাচটা কি ফসকে যাবে হাত থেকে?

ঠিক তখনই মেহেদী হাসান মিরাজ মাটিতে বসে পড়লেন। হ্যামস্ট্রিংয়ে টান। ফিজিও এলো। খেলা থামলো মিনিট পাঁচেকের জন্য।

এটা সত্যিকারের ইনজুরি ছিল, নাকি ম্যাচের গতি কমানোর ছোট্ট এক মানসিক চাল—সেটা হয়তো কখনও নিশ্চিত করে জানাই যাবে না? কিন্তু এটুকু বোঝা যাচ্ছিলো, ওই বিরতিই পাকিস্তানের ব্যাটারদের মনোযোগে বিরাট পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

বিরতির পর এক বল পরই ফিরে গেলেন সাজিদ খান। স্লিপে ক্যাচ দিলেন। পরের ওভারে গালিতে ক্যাচ দিলেন রিজওয়ান। এরপরের ওভারে পাকিস্তানের শেষ উইকেটের পতন।

মিরাজের ওই বিরতির পর আর কোনো রান যোগ না করেই শেষ তিন উইকেট হারায় পাকিস্তান।  টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দলকে টানা চার ম্যাচ হারালো বাংলাদেশ। মিরাজ ওই মানসিক চাল না চাললে অসাধ্য সাধন আদৌ করা যেত কি না কে জানে!

Share via
Copy link