ডুলিই কি তবে হচ্ছেন বাংলাদেশের কোচ?

যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির যৌথ পরিচয় বহন করা থমাস ডুলি খেলোয়াড় জীবনে ছিলেন আমেরিকান মিডফিল্ডার, পাশাপাশি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হয়ে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন ক্যারিয়ারের বহুটা সময়। ২০০২ সালে শুরু করা কোচিং ক্যারিয়ারে ডুলির যাত্রা শুরু হয় এফসি সাব্রুকেনের হয়ে।

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ হবেন কে? এই আলোচনায় হঠাৎ করে সবার আগে চলে এসেছে থমাস ডুলির নাম। সব ঠিকঠাক থাকলে ক্রিস কোলম্যানকে টপকে আমেরিকার হয়ে বিশ্বকাপ খেলা সাবেক এই ফুটবলারের দিকেই হাত বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

হামজা চৌধুরী, জামাল ভুইয়াদের দায়িত্ব কার হাতে উঠবে তা ঘোষণা করার কথা ছিল গত ১৫ মে। বাংলাদেশের কোচ হওয়ার সবচেয়ে দ্বারপ্রান্তে ছিলেন ওয়েলসের কোচ ক্রিস কোলম্যান। কিন্তু তাঁর এজেন্টের ফি ইস্যুতে থেমে যায় বাংলাদেশ ফুটবলের নতুন কোচের ঘোষণা। এখন তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা থমাস ডুলির সাথেই হিসাব কষছে বাফুফে।

প্রশ্ন আসতে পারে কে এই থমাস ডুলি? যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির যৌথ পরিচয় বহন করা থমাস ডুলি খেলোয়াড় জীবনে ছিলেন আমেরিকান মিডফিল্ডার, পাশাপাশি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হয়ে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন ক্যারিয়ারের বহুটা সময়।

জার্মান বুন্দেসলিগায় বেয়ার লেভারকুসেন কিংবা শালকে জিরো ফোরের মত বড় ক্লাবেও খেলে তিনি। জাতীয় দল আমেরিকার হয়ে খেলেন ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল। ২০০২ সালে শুরু করা কোচিং ক্যারিয়ারে ডুলির যাত্রা শুরু হয় এফসি সাব্রুকেনের হয়ে।

এরপর লম্বা বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারি কোচের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ফিলিপাইন সহ আরো অনেক দলের কোচের ভূমিকায় ছিলেন। চলতি বছরেও ছিলেন গায়ানার জাতীয় দলের প্রধান কোচ। কিন্তু, সেই পদ তিনি ছেড়ে দেন। এর পরই তাঁকে ঘিরে বাফুফের আশা জোরদার হয়।

মূলত অনেকটা লম্বা সময় ধরেই ডুলি ও বাফুফের মধ্যকার আলোচনা চলছিল। বিভিন্ন সূত্র বলছে, বাফুফের সঙ্গে তাঁর আলোচনা এখন অনেকটাই চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বাফুফে এমন এক কোচ খুঁজছে, যিনি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এশিয়ান ফুটবল সম্পর্কেও ধারণা রাখেন।

সেই জায়গা থেকে ডুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাফুফে। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ডুলির অধীনে থাকা ফিলিপাইন প্রথমবারের মতো এএফসি এশিয়ান কাপে জায়গা করে নেয়। সেই অভিজ্ঞতাটাই এবার কাজে লাগাতে চায় বাফুফে।

আগামী মাসেই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরোপের মাঠে সান মারিনোর সাথে প্রীতি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। এর আগেই কি যোগ দেবেন নতুন? উত্তর জানতে সময়ের অপেক্ষা ছাড়া কোনো বিকল্প পথ নেই।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link