বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক সময়ের সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভেতরে শুরু হয়েছে নীরব আলোচনার ঝড়। শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি সিরিজের পর থেকে এই আলোচনা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। কেননা, সেই সিরিজেই দেখা গিয়েছিল এক অদ্ভুত সিদ্ধান্ত—দলে থাকা সত্ত্বেও নুরুল হাসান সোহানকে উইকেটকিপিং করতে দেওয়া হয়নি।
অথচ, তিনিই দলের সেরা উইকেটরক্ষক, আর তখন তাঁর কোনো ইনজুরিও ছিল না। এমনকি সেই একই ঘটনা ঘটেছিল এশিয়া কাপের মঞ্চেও। লিটনের জায়গায় অধিনায়ক বনে যাওয়া জাকের আলীই দাঁড়ান উইকেটের পেছনে। জানা গেছে, গেল এক বছরের সব আলোচিত ম্যাচ ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এখন খতিয়ে দেখা হবে। এসব নিয়ে কথা বলা হবে কোচ, অধিনায়ক ও দলের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে।
সোহানের কিপিং না করার রহস্য অবশ্য এখন অনেকটাই পরিষ্কার। অভিযোগ উঠেছিল, সিদ্ধান্তটা নাকি সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের। কিন্তু তদন্তে জানা গেছে, আসলে তখন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বে থাকা জাকের আলী অনিক নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তিনিই কিপিং করবেন। তাঁর যুক্তি ছিল—স্টাম্পের পেছন থেকে দলকে আরও ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারবেন।

সালাউদ্দিন বরং তাতে ভিন্ন মত দিয়েছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন, কিপিং করা উচিত সোহানেরই। এমনকি প্রধান কোচ ফিল সিমন্সকেও তিনি অনুরোধ করেছিলেন জাকেরের সিদ্ধান্ত বদলাতে। কিন্তু সিমন্স ‘অধিনায়কের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ না করার’ নীতিতে অটল থাকেন। সেই সিরিজ অবশ্য বাংলাদেশ জিতেছিল।
বিষয়টা নিয়ে ক্ষিপ্ত ছিলেন নুরুল হাসান সোহান। তিনি নাকি কোচিং স্টাফ দলের এক সদস্যকে বলেছিলেন, ‘আমি বাংলাদেশের হয়ে ২৬০ ম্যাচ খেলেছি। তারপরও আপনি আমাকে কোনোদিন কিপিং করতে দেখেননি।’
এর ধারাবাহিকতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজেও দেখা যায় আরেকটি বিতর্কিত মুহূর্ত। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জিততে দরকার ছিল ৫ রান—হাতে এক ওভার। অথচ সেই ওভার বল করাতে দেওয়া হয় পার্টটাইম স্পিনার সাইফ হাসানকে। মিরপুরের স্পিনবান্ধব উইকেটে চার বিশেষজ্ঞ স্পিনারের বল শেষ করে ফেলে দল, আর শেষ মুহূর্তে ভরসা রাখা হয় পার্টটাইমার সাইফের ওপর। মুস্তাফিজুর রহমানের ওভারের হিসাবে গোলমালে করে ফেলেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।

পরে সুপার ওভারে গিয়ে হারে বাংলাদেশ, সেখানে দায়িত্ব পাওয়ো ব্যাটারদের নিয়েও প্রশ্ন তোলাই যায়। এমন সব সিদ্ধান্ত নিয়েও বিসিবি কৌতুহলী। আবার উল্টো উদাহরণও আছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি ওয়ানডেতে দুর্দান্ত বোলিং করেছিলেন সাইফ—৪ ওভারে ৬ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। অথচ ৩৮তম ওভারের পর আর তাঁকে বোলিংয়েই ডাকা হয়নি।
ঠিক এমনই প্রশ্ন উঠেছে রিশাদ হোসেনকে ৯ নম্বরে নামানো নিয়েও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই ম্যাচে রিশাদ ঝড় তুলেছিলেন ১৪ বলে ৩৯ রানে। অথচ তাঁকে যদি নাসুম আহমেদের আগে নামানো হতো, ফলটা হয়তো ভিন্ন হতে পারত। নাসুম সেদিন ২৬ বল খেলে ১৪ রান করেন। এসব সিদ্ধান্তের পেছনে থাকা যুক্তি জানতে এখন আগ্রহী বিসিবি। কারণ বোর্ডের ভেতরে বিশ্বাস করা হচ্ছে, জাতীয় দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এখন দরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি।
এরই মধ্যে বোর্ডে এক অলিখিত সিদ্ধান্ত হয়েছে—জাতীয় দল–সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সরাসরি নজর রাখবেন পরিচালনা পর্ষদের চার সাবেক ক্রিকেটার। সেখানে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ছাড়াও আছে সহসভাপতি ফারুক আহমেদ, খালেদ মাসুদ পাইলট ও আব্দুর রাজ্জাক। তাঁরা দলের ভেতরে নেওয়া সিদ্ধান্তের জট ছাড়াতে পারেন কি না, এখন সেটাই দেখার ব্যাপার।











