বিবাদের ঝড় বয়ে যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের ড্রেসিংরুমে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭ রানের জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও ভারতের অন্দরমহলে সেই স্বস্তি তেমন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
মাঠে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির ব্যাটে জ্বলজ্বল করছে, তবে ড্রেসিংরুমের বাতাস এখন মোটেও পরিচ্ছন্ন নয়। আকাশছোঁয়া প্রতিভার দুই তারকা এবং কোচ গৌতম গম্ভীরের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন সরাসরি শিরোনামে।
আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর এটি দেশের মাত্র দ্বিতীয় ওয়ানডে সিরিজ। ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কিছুটা কমলেও, রোহিত-কোহলি জুটি দর্শকদের আগ্রহ ধরে রেখেছে। মাঠে তাদের ইনিংসগুলো চোখ ধাঁধানো। রোহিতের ব্যাট থেকে এসেছে ৭৩, ১২১ অপরাজিত এবং ৫৭ রান; কোহলি করেছেন অপরাজিত ৭৪ ও ১৩৫। তবে ফর্ম থাকলেও, ড্রেসিংরুমে অচল অবস্থা বিদ্যমান – যেটা ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে খুব বেশি ইতিবাচক নয়।

সূত্রের খবর জানিয়েছে, গম্ভীর ও দুই সিনিয়র ব্যাটসম্যানের মধ্যে সম্পর্ক ‘শীতল’ পর্যায়ে চলে গেছে। মাঠে হাসাহাসি বা সৌহার্দ্য ছিল, বিশেষ করে আইপিএলের সময় কোহলির সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল।
কিন্তু, টেস্ট অবসরের পর থেকে দূরত্ব আরও স্পষ্ট। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের সময় রোহিত ও প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকারের মধ্যে কথাবার্তাও প্রায় ছিল না। চলতি দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও কোহলি এবং গম্ভীরের মধ্যে খুব বেশি কথাবার্তা হচ্ছে না।
বিসিসিআইও এখন উদ্বিগ্ন। সোশ্যাল মিডিয়ায় রোহিত-কোহলি ভক্তদের গম্ভীরকে আক্রমণও তাদের চিন্তার কারণ। মাঠের পারফরম্যান্স ভালো হলেও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ যাতে দলের জন্য ক্ষতিকর না হয়, সে বিষয়ে বোধ হয় শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রায়পুর বা বিশাখাপত্তনমে এই দুই তারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি জরুরি মিটিং হওয়ার সম্ভাবনা জোরালোভাবে সামনে এসেছে।

একটি সূত্র বলছে, ‘গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে সিনিয়র খেলোয়াড়দের সম্পর্ক যতটা ভালো হওয়া উচিত, ততটা নেই। তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বোর্ডের তরফ থেকেই বৈঠকে বসা হবে, জানিয়েছে শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। সেই বৈঠকে নির্বাচক অজিত আগারকারও থাকবেন। এর ফর্থ হল, ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে রোহিত-কোহলি থাকবেন কি না, সেটা দ্রুতই নির্ধারিত হয়ে যাবে।
ফলে, মাঠের জয় এবং ব্যাটসম্যানদের ফর্মের উজ্জ্বলতার মাঝে গম্ভীর-রোহিত-কোহলি সম্পর্কের ছায়া যেন ছাপ ফেলছে দলের মনোবল ও ভবিষ্যতের রোডম্যাপের উপর। এই দূরত্ব এবং দ্বন্দ্ব যত দ্রুত সম্ভব সমাধান হবে, নয়তো দীর্ঘমেয়াদে দলের জন্য তা মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।










