বাংলাদেশেও আছেন বিপ্লবী শাহরিয়ার নাফিস

এখানে হরহামেশাই 'আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম' বলে নতুন প্রজন্মকে হেয় করবার উৎসব চলে। সেই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বিপ্লব শুরু করে দিয়েছেন শাহরিয়ার নাফিস।

বাংলাদেশে হয়ত একজন যুবরাজ সিং নেই, কিন্তু আছেন শাহরিয়ার নাফিস। বাংলাদেশে একজন অভিষেক শর্মা নেই তবে তানজিদ হাসান তামিমরা বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের অস্তিত্ব মজবুত করার লড়াই ঠিকই করছেন। সংগ্রামে অগ্রজ শাহরিয়ার নাফিস অবদান রেখে যাচ্ছেন ঠিক যেমন অবদান রাখছেন অভিষেকের উন্নতিতে যুবরাজ সিং।

কোন অহেতুক তুলনায় নয়, স্রেফ উদাহরণ হিসেবেই এক্ষেত্রে যুবরাজকে টেনে নিয়ে আসা। যুবরাজ উচ্চতায় শাহরিয়ার নাফিস পৌঁছাতে পারেননি। এই সত্য তিনি অকপটে স্বীকার করে নেবেন। কেননা তিনি নিজের সামর্থ্য আর সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে বেশ স্পষ্ট ধারণা রাখেন। তবে এ কথা সত্য, নাফিস তার সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটারদের একজন ছিলেন।

২০০৬ সালে এক পঞ্জিকাবর্ষে ১০৩৩ রান করেছিলেন শাহরিয়ার নাফিস। সে সময় তার ব্যাটিং গড় ছিল ৪১.৩২। ধারাবাহিকতার চিত্র এর থেকে স্পষ্ট হওয়ার উপায় নেই। ওয়ানডেতে এক পঞ্জিকাবর্ষে সেটিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি ব্যাটারদের প্রথম ও একমাত্র হাজার ছাড়ানো রানের রেকর্ড।

সম্প্রতি ডেইলি ক্রিকেটের পডকাস্টে শাহরিয়ার নাফিস নিজের সীমাবদ্ধতা নির্দ্বিধায় উল্লেখ করেছেন। তিনি ধারাবাহিক ছিলেন বটে, তবে কখনোই সহজাত ছক্কা হাঁকানোর গুণ তার ছিল না। চাপের মুহূর্তে যে ছক্কা নির্ভার করে একজন ব্যাটারকে। নিজের সেই প্রসঙ্গে তানজিদ হাসান তামিমের প্রশংসাও করেছেন, তামিমের ওয়ানডেতে ৫২ ছক্কার বিপরীতে তার সাত ছক্কার প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে এসে।

একজন সাবেক ক্রিকেটার নিজের সীমাবদ্ধতাকে সামনে রেখে তারই অনুজের প্রশংসা করছেন, এতটুকু পুলকিত হওয়ার শেষ নয়। এই তো সেদিন, শতক হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে সিরিজ জেতালেন তানজিদ হাসান তামিম। এরপর তিনি সংবাদ সম্মেলনে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন শাহরিয়ার নাফিসকে। কিন্তু কেন?

কারণটা খুব সহজ- তামিমের গেম ডেভেলপমেন্টে সরাসরি সাহায্য করছেন শাহরিয়ার নাফিস। ঠিক যেমনটি করে যাচ্ছেন অভিষেকের জন্য যুবরাজ। একজন সাবেক ক্রিকেটার যখন তার শক্তিমত্তা আর দূর্বলতার জায়গাগুলো উপলব্ধি করতে পারেন- তার অর্থ তিনি নিজের ভুলগুলো বোঝেন। আর সেই ভুল যেন তার অনুজ না করে সেদিকেই থাকে সমস্ত মনোযোগ। তাই তিনি শেখান, সাহস জোগান, ভরসা দেন।

এই সংস্কৃতি বাংলাদেশের বেশ বিরল। এখানে হরহামেশাই ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’ বলে নতুন প্রজন্মকে হেয় করবার উৎসব চলে। সেই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বিপ্লব শুরু করে দিয়েছেন শাহরিয়ার নাফিস। বাংলাদেশ ক্রিকেটে নাফিসের মত এমন চরিত্র আরও প্রয়োজন- যারা তরুণদের শেখাবেন, ভুল শুধরে দেবেন, সাহস জোগাবেন।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link