আট জন খেলেছেন ওপেনিংয়ে, থিতু হননি কেউই

সকালের সূর্য দিনের পূর্বাভাস দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের সূর্য হবে কোন জুটি- তা সুনিশ্চিত নয়। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকে এখন অবধি মোট আটজন ব্যাটার ওপেনিং পজিশনে ব্যাট করতে নেমেছেন।

বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের ওপেনিং জুটি একপ্রকার সেট হয়ে গেছে। তানজিদ হাসান তামিমের সাথে পারভেজ হোসেন ইমন, পরিস্থিতি মেনে কখনো সাইফ হাসান কখনো বা লিটন দাস। কিন্তু বাংলাদেশের ওয়ানডে দল ওপেনিং জুটিটা এখনও রয়ে গেছে নড়বড়ে অবস্থায়। সকালের সূর্য দিনের পূর্বাভাস দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের সূর্য হবে কোন জুটি- তা সুনিশ্চিত নয়।

২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকে এখন অবধি মোট আটজন ব্যাটার ওপেনিং পজিশনে ব্যাট করতে নেমেছেন। এর মধ্যে সর্বাধিক ম্যাচ খেলেছেন সৌম্য সরকার, আর সর্বনিম্ন দুই ম্যাচে ওপেনিং করেছেন লিটন কুমার দাস। তবে সৌম্য সর্বাধিক জুটি বেধেছেন তানজিদ তামিমের সাথে।

মোট সাত ইনিংসে এই দুই ব্যাটার একসাথে ব্যাট করেছেন ওপেনিংয়ে। রান তুলতে পেরেছেন ১৬৩। বড় সংগ্রহ বলতে আছে একটা ৫৩ রানের যুগলবন্দী। সেদিক থেকে আবার সাইফ হাসান ও সৌম্যর জুটিকে সফল বলা যেতে পারে। এই জুটি ২০৬ রান সংগ্রহ করেছেন স্রেফ তিন ইনিংসে একসাথে ব্যাট করে।

এর মধ্যে ১৭৬ রানের এক অনবদ্য পার্টনারশীপ তারা গড়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। বাংলাদেশের চিরায়ত ধ্যান-ধারণার ডানহাতি-বামহাতি  কম্বিনেশন বজায় রেখে তারা মোটেমুটি সফল হয়েছেন সাম্প্রতিক সময়ে। কিন্তু কেউই সেই অর্থে থিতু হতে পারেননি, থাকতে হয়েছে দোলাচলের মধ্যে। টি-টোয়েন্টির সফল ওপেনিং জুটি তামিম ও ইমনকেও বাজিয়ে দেখা হয়েছে। সেখানেও মেলেনি সফলতা।

এনামুল হক বিজয় ও মোহাম্মদ নাঈম শেখকেও ফেরানো হয়েছিল, কাঙ্খিত ফলাফল মেলেনি তাদের কাছ থেকে। এমনকি নাজমুল হোসেন শান্তও সামলেছেন ওপেনিংয়ের দায়িত্ব। এমনকি সৌম্য কিংবা সাইফরা ঠিক জানেন না তারা পরবর্তী সিরিজে সুযোগ পাবেন কি-না। এমন টালমাটাল পরিস্থিতি নিয়ে আর যাই হোক বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া যায় না। অতএব বাংলাদেশকে অন্তত একটা জুটির উপর ভরসা করতে হবে, তাদেরকে সময় দিতে হবে।

হতে পারে সে জুটি সৌম্য-সাইফ কিংবা সাইফ-তামিম। একজন ব্যাকআপ ওপেনারসহ তিনজনের একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে ফেলা প্রয়োজন। তাদের উপর যতটা সম্ভব আস্থা রেখে পারফরম করা, ছন্দে ফেরার অনুপ্রেরণা জোগানোর কাজটা করে যেতে হবে। নতুবা বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের পথটাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে দিনশেষে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link