বর্ণবাদের শিকার ভিনিসিয়াস, ব্রাজিলজুড়ে তোলপাড়

লিসবনের সবুজ ঘাসে যখন রিয়াল মাদ্রিদের জয়ের উল্লাস হওয়ার কথা ছিল, সেখানে আবারও হানা দিল বর্ণবাদের কালো ছায়া। ম্যাচের ৫২তম মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সেই জাদুকরী শট যখন জালের ওপরের কোণ খুঁজে নিল, তখন কে জানত এই আনন্দ বিষাদে রূপ নিতে বেশি সময় নেবে না।

লিসবনের সবুজ ঘাসে যখন রিয়াল মাদ্রিদের জয়ের উল্লাস হওয়ার কথা ছিল, সেখানে আবারও হানা দিল বর্ণবাদের কালো ছায়া। ম্যাচের ৫২তম মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সেই জাদুকরী শট যখন জালের ওপরের কোণ খুঁজে নিল, তখন কে জানত এই আনন্দ বিষাদে রূপ নিতে খুব একটা সময় নেবে না।

গোল উদযাপনের সময় কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে ভিনির সেই পরিচিত নাচ যেন আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল বেনফিকা সমর্থকদের মনে। গ্যালারি থেকে ধেয়ে আসা বোতল আর ধিক্কারের মাঝে শুরু হলো এক নতুন নাটকের।

উদযাপনের রেশ কাটতে না কাটতেই ভিনিসিয়াসের দিকে তেড়ে আসেন বেনফিকার ২০ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ানি। জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে প্রেস্টিয়ানি এমন কিছু বললেন, যা মুহূর্তেই বদলে দেয় মাঠের পরিবেশ।ভিনিসিয়াস সরাসরি রেফারির কাছে গিয়ে অভিযোগ করেন যে তাকে ‘মাঙ্কি’ তথা বানর বলে সম্বোধন করা হয়েছে।

ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার কালক্ষেপণ না করে দুই হাত মাথার ওপর আড়াআড়ি করে ‘অ্যান্টি রেসিজম প্রটোকল’ সক্রিয় করার সংকেত দেন। প্রায় দশ মিনিটের জন্য থমকে যায় ফুটবল বিশ্ব। খেলার সেই উত্তাল সময়ে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে ডাগআউটে গিয়ে বসেন ভিনিসিয়াস।

মাঠেই প্রতিবাদ করে কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং অহেলিয়া চুয়ামেনি। ম্যাচ শেষে আলেকজান্ডার আর্নোল্ড এটিকে ফুটবলের জন্যে এক লজ্জাজনক রাত হিসেবে অভিহিত করেন।

এই ঘটনায় ভিনির পাশে দাঁড়িয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন । তাদের অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বর্ণবাদ একটি অপরাধ এবং এটি অগ্রহণযোগ্য। ভিনি, তুমি একা নও। তোমার এই প্রতিবাদী অবস্থান সাহসের অনন্য  উদাহরণ।”

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ভিনির জন্য এই লড়াই নতুন কিছু নয়। ২০২৩ সালে মাদ্রিদে তার প্রতিমূর্তি ঝুলিয়ে দেওয়ার সেই নারকীয় ঘটনার স্মৃতি এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে অমলিন। সেই ঘটনায় স্প্যানিশ পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করলেও, ফুটবল মাঠ থেকে এখনো এই ব্যাধি নির্মূল হয়নি।

​তবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে তারা পিছু হটবে না। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের প্রতিটি লড়াইয়ে ছায়ার মতো পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে তারা।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link