এনামুল হক বিজয়, এখন এক ব্রাত্য চরিত্র। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক অধ্যায়ের সূচনা কিন্তু তার হাত ধরেই হয়েছিল। তার দেখানো পথ ধরে, সাত আসর ধরে সেঞ্চুরির একটা ধারা অব্যাহত ছিল অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্যাটাররা ঠিক কতটুকু খারাপ করেছেন, তার একটা পরিমাপক হতে পারে- এবারের আসরে কোন সেঞ্চুরি না পাওয়া।
২০১২ সালে নিজেদের প্রথম ম্যাচে, শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচেই সেঞ্চুরি হাঁকান এনামুল হক বিজয়। তার ১০১ রানের সেই ইনিংসটির পর, ওই আসরে তিনি আরও একটি সেঞ্চুরি তুলে নেন পাকিস্তানের বিপক্ষে। এমনকি লিটন কুমার দাসেরও ছিল একটি সেঞ্চুরি।
এরপর থেকে ২০২৪ সাল অবধি বাংলাদেশ দলের কোন না কোন ব্যাটার অন্তত একটি হলেও সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন যুব পর্যায়ে বৈশ্বিক আসরে। আরিফুল ইসলামের তো দু’টো ভিন্ন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির রেকর্ডও আছে। কিন্তু ২০২৬ আসরে বাংলাদেশের পক্ষে নেই কোন সেঞ্চুরি।

দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, এবারের আসরে সর্বোচ্চ ৬৪ রানের একটি ইনিংস খেলেছেন অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম। ওই তিনিই বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৯৪ রান সংগ্রহ করেছেন। তার এই অর্জনেও লেপ্টে আছে বেদনা। স্রেফ ৬৭.৫৯ স্ট্রাইকরেটে রান তুলেছেন আজিজুল হাকিম।
এই যখন সর্বোচ্চ ভাল পারফরমেন্সের নমুনা, তখন নিশ্চয়ই বুঝতে অসুবিধা হয়না। ব্যাটারদের এমন নিষ্ক্রিয়তাই বাংলাদেশের ভরাডুবির কারণ। এমনকি তামিম ছাড়া আর কোন ব্যাটার একটিও ফিফটি হাঁকাতে পারেননি। রিফাত বেগ, জাওয়াদ আবরাররা হতাশ করেছেন প্রচণ্ড। অথচ ২০২০ সালের পর থেকেই বেশ উচ্চাভিলাষ নিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে যায় বাংলাদেশ।
ক্রমশ যেন সেই উচ্চাভিলাষ আকাশকুসুম স্বপ্নে পরিণত হচ্ছে। ২০২০ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সেমিফাইনালের গণ্ডিও পেরুতে পারেনি বাংলাদেশ। ব্যাটারদের এমন নেতিবাচক ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ অব্যাহত থাকলে আর যাই হোক, কাঙ্খিত সফলতার পুনরাবৃত্তি আর কখনোই ঘটবে না।












