সেই বিষধর সুইংয়ে মারুফা আক্তার জাগিয়েছিলেন আশা। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারাবে বাঘিনীরা। কিন্তু সেই স্বপ্নের মাঝে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন হিদার নাইট। মারুফাদের সকল কষ্টের ফসলে পানি ঢেলে দিলেন ইংলিশ ব্যাটার।
পাকিস্তানকে হারিয়ে বেশ উজ্জীবিত ছিল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। শক্তিমত্তার ইংল্যান্ডের সাথে পার্থক্য বিশাল। তবুও জয়ের এক মৃদু সম্ভাবনা তৈরি করেছিল টাইগ্রেস বোলাররা। তার আগে অবশ্য মোটামুটি একটা লড়াকু সংগ্রহ স্কোরবোর্ডে তুলেছিল বাংলাদেশের ব্যাটাররা। সোবাহানা মোস্তারির সংগ্রামী ৬০ রানের উপর দাঁড়িয়ে রাবেয়া খান খেলেন ২৭ বলে ৪৩ রানের এক ঝড়ো ইনিংস।
তাতে করে বাংলাদেশের সংগ্রহ গিয়ে দাঁড়ায় ১৭৮ রানে। সবগুলো উইকেট হারিয়ে সেই সংগ্রহ গড়েছিল বাংলাদেশ। এই স্বল্প সংগ্রহ ডিফেন্ড করা ভীষণ কঠিন। তবে মারুফার হাত ধরে বাংলাদেশের স্বপ্ন বোনার শুরু। ইনিংসের প্রথম ওভারেই মারুফা আঘাত হানেন ইংল্যান্ডের ব্যাটিং অর্ডারে।

সেই মায়াবী ইন সুইংয়ে পরাস্ত হন অ্যামি জোন্স। তবে দুই বল আগেই মারুফার উইকেট পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আম্পায়র জ্যোতিদের পক্ষে দেননি সিদ্ধান্ত। কিন্তু মারুফা ঠিকই পরে আবার লেগ বিফোরের জোরাল আবেদনে উইকেটটি তুলে নেন। এমনকি আরেক ওপেনার ট্যামি বিউমাইন্টকেও আউট করেন মারুফা, ইনসুইংয়ের ধুম্রজাল সৃষ্টি করে।
২৯ রানে দুই উইকেট হারানো ইংল্যান্ড ৬৯ রানে হারায় চার উইকেট। মারুফার সাথে উইকেট শিকারির তালিকায় যুক্ত হন ফাহিমা খাতুন। ৭৮ রানের মাথায় ইংল্যান্ডের পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে এমা ল্যাম্ব আউট হলে, জাগে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা। কিন্তু শেষ অবধি ইংলিশদের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে যান হিদার নাইট।
অ্যালিস ক্যাপসির সাথে ২৫ রানের জুটি ভাঙার পর, নাইট সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। চার্লি ডিনের সাথে গড়া অপরাজিত ৭৯ রানের জুটির ৫৫টি রানই এসেছে হিদার নাইটের ব্যাট থেকে। সোবাহানা মোস্তারির বলে চার হাঁকিয়ে ম্যাচ শেষ করেন, চার্লি ডিন। পরাজিত সৈন্য সেনা নিয়ে বিষন্ন বদনে মাঠ ছাড়েন নিগার সুলতানা জ্যোতি। জয়ের সুবাতাস পেয়েও সেই বন্দরে পৌঁছাতে না পারার আক্ষেপ গোটা দলকেই পোড়াবে নিশ্চয়ই।












