রান আউট। এক অদম্য যোদ্ধা জ্যাকব বেথেলের বিদায় এমনভাবে ঘটবে কে ভেবেছিল? একাই যেন লড়লেন। ভারতের চোখে চোখ রেখে সংগ্রাম করলেন ২২ বছরের ছোকড়া। রেকর্ড গড়া ফিফটির পর, শতকের ওপারেও নিয়ে গেলেন নিজের ইনিংসকে। শেষ অবধি আর তার জয় পাওয়া হল না।
ইংল্যান্ডের ভবিষ্যত আছে ঠিক হাতে। জ্যাকব বেথল একটা ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে দাঁড়িয়ে খেলে গেলেন জীবনের অন্যতম সেরা ইনিংসগুলোর একটি। সেমিফাইনালের মঞ্চ। ভারতের রান পাহাড়ে গোটা দলের অবস্থা নাজেহাল। তবুও বেথেল হননি বিচলিত। ভারতের সেরা বোলারদের বিপক্ষে বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন দারুণ আধিপত্য নিয়ে।
এমনকি তার মনে ভয় ধরাতে পারেনি বরুণ চক্রবর্তীর রহস্য স্পিনও। অনায়াসে তিনি খেলেছেন রিভার্স সুইপও। দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। ১৯ বলে হাফসেঞ্চুরির পঞ্চম দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জ্যাকব বেথেল। বাইশ গজে রীতিমত কর্তৃত্ব ফলানো একটা ইনিংস উপহার দিয়ে গেছেন তরুণ এই ব্যাটার।

যতক্ষণ তিনি টিকে ছিলেন বাইশ গজে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ছিল সজীব। তিনি নিজের সমস্তটুকু দিয়ে চেষ্টা করে গেছেন। আরেক পাশের উইকেট পতনের মিছিল সামনে থেকে দেখেছেন। তবুও তার মনে ভয়কে জায়গা দেননি। নিজের সামর্থ্যের উপর ভরসা রেখে ম্যাচের শেষটা দেখতে চাইলেন।
কিন্তু তা আর দেখা হল না তার। ৪৮ বলে ১০৫ রানে ঘটে তার অভাবনীয় ইনিংসের অবসান। রান আউটে কাঁটা পড়ে অবসান ঘটে বেথেলের ২১৮ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটির। এত লম্বা সময় ধরে আগ্রাসী স্ট্রাইকরেট বজায় রেখে তিনি লড়ে গেছেন দলের জয়ের ভাবনা নিজের মস্তিষ্কে রেখে।
আটটি চার ও সাতটি ছক্কার মারে তিনি দলের আস্কিং রানরেটকে রেখেছিলেন নাগালের মধ্যেই। কিন্তু সব পেয়ে গেলে পাওয়ার ইচ্ছে হয়ত একদিন শেষ হয়ে যায়। সে কারণেই হয়ত অপ্রাপ্তির খালি হাত নিয়ে বেথেল নিয়েছেন বিদায়।












