ইংল্যান্ড বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা – দুই সমশক্তির লড়াই। দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অথচ হলো ঠিক উল্টো। প্রোটিয়াদের কাছে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে ইংলিশরা। ২২৯ রানের বিশাল জয় পেয়েছে এইডেন মার্করামরা।
আগে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা শুরুতেই হারায় কুইন্টন ডি কককে। ইনফর্ম এই ওপেনার না থাকলেও সমস্যায় পড়তে হয়নি দলকে। টেম্বা বাভুমার বদলে দলে আসা রেজা হেন্ড্রিকস আর রাসি ভ্যান ডার ডুসেনের দারুণ ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি হয়। ব্যক্তিগত ৬০ রানের মাথায় ডুসেন আউট হলেও অধিনায়ক এইডেন মার্করাম যোগ্য সঙ্গ দেন হেন্ড্রিকসকে।
এই ওপেনার অবশ্য সেঞ্চুরি মিস করেন, আউট হন ৮৫ রান করে। কিন্তু তাতেই যেন ঝড়ের দরজা খুলে যায়; বাইশ গজে আসেন হেনরিখ ক্ল্যাসেন। যদিও মিডল অর্ডারের আরেক বিধ্বংসী ব্যাটার ডেভিড মিলার বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, কিন্তু তাতে ক্ল্যাসেন থেমে থাকেননি। মার্কো জানসেনকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন তান্ডব।

আউট হওয়ার আগে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার ৬৭ বলে করেন ১০৯ রান; অন্যদিকে জানসেনের ব্যাট থেকে আসে ৪২ বলে ৭৫ রান। দুজনের এই ক্যামিওতে ভর করে ৩৯৯ রানের বিশাল সংগ্রহ জমা করে দক্ষিণ আফ্রিকা।
আগ্রাসী ক্রিকেটে বিশ্বাসী ইংল্যান্ড অন্তত লড়াই করবে এমনটাই মনে হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হতেই দেখা যায় ভিন্ন চিত্র – প্রোটিয়া পেসারদের তোপের মুখে পড়ে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে জস বাটলারের দল। পাওয়ার প্লেতেই চার ব্যাটার ফেরেন সাঁজ ঘরে, বলতে গেলে ম্যাচ জয়ের আশা সেখানেই শেষ হয়ে যায়।
তবু সম্মান রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন হ্যারি ব্রুক, বাটলাররা। কিন্তু জেরাল্ড কোয়েটজি সেটাও ব্যর্থ করে দেন। তাঁর ঘূর্ণি জাদুর মায়াতে ইংলিশ মিডল অর্ডার তাসের ঘরের মত ভেঙে যায়।

বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের রান যখন শতকের ঘরে পৌঁছায় ততক্ষণে আটজন ব্যাটসম্যান ইতোমধ্যে আউট হয়েছিলেন। নবম উইকেট জুটিতে অবশ্য ৭০ রান এসেছে কিন্তু সেটি কেবলই পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে। শেষপর্যন্ত সবকয়টি উইকেট হারিয়ে ১৭০ রানে থেমেছে ইংল্যান্ডের ইনিংস।
বিশ্বকাপ ইতিহাসেই এত বড় জয় বেশ দুর্লভ ঘটনা। দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এমন পারফরম্যান্স তাই সমর্থকরা মনে রাখবে অনেকদিন। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের পরে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথেও হারায় সেমিতে যাওয়ার পথে বড় ধাক্কা খেলো থ্রি লায়ন্সরা।










