আইপিএলের ইতিহাসে ব্লকবাস্টার অদলবদল

ঘর ছেড়ে পরকে আপন করতে চেয়েছিল, কিন্তু হলো না। দিল্লি চেয়েছিল তাকে ধরে রাখতে, অথচ ঋষভ পান্ত নিজেই বেরিয়ে গিয়েছিলেন নতুন অভিযানে। লখনৌতে গিয়ে রেকর্ড ২৭ কোটি রুপির চুক্তি হলেও পারফরম্যান্সে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। ব্যর্থতার চাপ, সমালোচনার তীর—সব মিলিয়ে তাঁর ক্যারিয়ার যেন পথ হারিয়ে ফেলেছিল।

ঘর ছেড়ে পরকে আপন করতে চেয়েছিল, কিন্তু হলো না। দিল্লি চেয়েছিল তাকে ধরে রাখতে, অথচ ঋষভ পান্ত নিজেই বেরিয়ে গিয়েছিলেন নতুন অভিযানে। লখনৌতে গিয়ে রেকর্ড ২৭ কোটি রুপির চুক্তি হলেও পারফরম্যান্সে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। ব্যর্থতার চাপ, সমালোচনার তীর—সব মিলিয়ে তাঁর ক্যারিয়ার যেন পথ হারিয়ে ফেলেছিল।

এখন আবার ঘরের ছেলে ঘরে ফেরা। দিল্লি ক্যাপিটালসের জার্সি, পুরনো দর্শক, পুরনো আবেগ—সবকিছু যেন এক নতুন করে শুরু করার প্রতিশ্রুতি। এটা শুধু আইপিএল ক্যারিয়ারের রিস্টার্ট নয়, বরং জাতীয় দলের সীমিত ওভারের স্কোয়াডে হারানো জায়গা ফিরে পাওয়ার লড়াইও।

পান্তের জন্য এই ট্রেডটা যেন এক রিসেট বাটন। প্রশ্নটা এখন—তিনি কি আবার নিজের ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখাতে পারবেন, নেতৃত্বে ধারটা আনতে পারবেন, আর ভারতের জার্সিতে হারানো জায়গা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন?

অন্যদিকে কুলদীপ যাদবের যাত্রা লখনৌ সুপার জায়ান্টসে নতুন অধ্যায় খুলছে। দিল্লির হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭২ উইকেট নেওয়া এই স্পিনার ভারতের হোয়াইট-বল ক্রিকেটে অন্যতম ভরসা। তাঁর ধারাবাহিক উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা এলএসজির স্পিন আক্রমণকে শক্তিশালী করবে। বর্তমান ১৩.৫ কোটি রুপির চুক্তিতে তিনি লখনৌতে যাচ্ছেন, যেখানে তাঁর ভূমিকা হবে দলের বোলিং বিভাগকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।

এই দলবদল নিয়ে বিতর্কও কম নয়। সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ কাইফ কুলদীপকে ছেড়ে দেওয়াকে “প্যানিক মুভ” বলেছেন। তবে দিল্লি মনে করছে, পান্তের অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তা আবারও দলকে এগিয়ে নেবে। অন্যদিকে এলএসজি বিশ্বাস করছে, কুলদীপের এড হওয়া  তাদের ভাগ্য বদলাতে পারে।

আইপিএল ২০২৭ মৌসুমে এই দলবদল দুই দলের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। দিল্লি পাবে তাদের ঘরের ছেলে আর লখনৌ পাবে ধারাবাহিক উইকেট শিকারি। দর্শকদের কাছে এই দলবদল তাই নিছক খেলোয়াড় বদল নয় এটা নিজেদের ব্যাতিক্রমধর্মী পরিকল্পনার গল্প।

 

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link