মাঠের ঘড়িতে তখনো কয়েক মিনিট বাকি। আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে পিছিয়ে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। গ্যালারিতে তখনো উৎকণ্ঠা, এক চিলতে আশা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা।
কিন্তু, স্টেডিয়ামের এক কোণায় তখনই শুরু হয়ে গেছে একদল খেলোয়াড়ের উল্লাস! হলুদ জার্সিতে মোড়া ব্রাজিলিয়ানদের ছোট্ট দলটি জানত, শিরোপা তাদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। আর ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ল পুরো ব্রাজিলিয়ান শিবিরে।
দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফিটা আবারও উঠল ব্রাজিলের হাতে। টানা দ্বিতীয়বার, সব মিলিয়ে ১৩তম! অথচ টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর কজনই-বা ভেবেছিল, শেষ হাসিটা হাসবে ব্রাজিল!

প্রথম ম্যাচেই আর্জেন্টিনার কাছে বিধ্বস্ত ব্রাজিল। ৬-২ গোলের লজ্জার পর যেন অনেকেই তাদের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছিল। অন্যদিকে, দুর্দান্ত সেই জয়ে আর্জেন্টিনাকে নিয়েই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল অনেকে।
কিন্তু, ফুটবল যে শুধুই স্কোরলাইনের খেলা নয়, তা আরও একবার বুঝিয়ে দিল ব্রাজিল। চূড়ান্ত পর্বের প্রথম ৪ ম্যাচ শেষে দুই দলের পয়েন্ট ছিল সমান ১০ করে। শিরোপার ভাগ্য নির্ধারিত হবে শেষ ম্যাচে। ভেনেজুয়েলার জোসে অ্যান্তনিও স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্রাজিল মুখোমুখি হয় চিলির।
৭২ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ ছিল গোলশূন্য, ব্রাজিল ছিল চাপের মুখে। কিন্তু শেষ ১৭ মিনিটে যেন পাল্টে গেল দৃশ্যপট! ৭৩ থেকে ৮৮ মিনিটের মধ্যে তিন গোল করে ৩-০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় ব্রাজিল।

ডেভিড ওয়াশিংটন, পেদ্রো এবং রিকার্ডো ম্যাথিয়াস—এই তিন গোলদাতা ব্রাজিলকে এগিয়ে দিলেন শিরোপার পথে। ৩ পয়েন্ট এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গোল ব্যবধানেও (+৪) এগিয়ে থাকল তারা।
এদিকে ব্রাজিলের ম্যাচ শেষ হতে না হতেই মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। শিরোপা জিততে শুধু জয় নয়, দরকার ছিল অন্তত ৪ গোলের ব্যবধানে জেতা। কঠিন সমীকরণ মানসিক চাপে ফেলে দেয় দলটিকে। প্রথমার্ধেই ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা, আর তখনই কার্যত শেষ হয়ে যায় শিরোপা জয়ের আশা। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা।
শেষ পর্যন্ত ৩ পয়েন্টে এগিয়ে থেকেই শিরোপা ঘরে তুলল ব্রাজিল। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ৬ গোল খাওয়ার দু:স্মৃতি পেছনে ফেলে লড়াই করে ফিরে এল তারা। ফুটবল ঠিক এভাবেই জীবনের গল্প, লড়াই না করে শেষ বলতে জানে না ব্রাজিল।











