জিম্বাবুয়ের সাথে ব্রায়ান বেনেটও অপরাজিত

জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে বর্তমান সময়ে ব্যাট হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ধ্রুবতারার নাম ব্রায়ান বেনেট। যে দলটি গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে নামার টিকিটই পায়নি, তারাই এবার অস্ট্রেলিয়া কিংবা শ্রীলঙ্কার মতো বাঘা বাঘা দলকে পেছনে ফেলে অপরাজিত থেকে নাম লিখিয়েছে সুপার এইটে।

জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে বর্তমান সময়ে ব্যাট হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ধ্রুবতারার নাম ব্রায়ান বেনেট। যে দলটি গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে নামার টিকিটই পায়নি, তারাই এবার অস্ট্রেলিয়া কিংবা শ্রীলঙ্কার মতো বাঘা বাঘা দলকে পেছনে ফেলে অপরাজিত থেকে নাম লিখিয়েছে সুপার এইটে।

আর এ যাত্রায় ব্যাট হাতে জিম্বাবুয়ে শিবিরের সবচেয়ে দক্ষ সৈনিকের পরিচয় দিয়েছেন বেনেট। তিন ইনিংসে খেলতে নেমে এখনো অবধি টুর্নামেন্টে কোনো বোলারের কাছেই হার মানেননি বেনেট, প্রতিটি ম্যাচে মাঠ ছেড়েছেন অপরাজিত বীরের বেশে।

ব্রায়ান বেনেটের ক্রিকেটে হাতেখড়ি হারারে শহরের দক্ষিণ-পূর্বের গোরোমোঞ্জিতে, নিজেদের বাড়ির পেছনের এক চিলতে নেটে। বাবা কেলি বেনেট নিজেও ছিলেন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটার। খেলেছেন কিংবদন্তি অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারদের প্রজন্মে।

বাবার বানানো সেই নেটেই চলত দুই যমজ ভাই ব্রায়ান ও ডেভিডের লড়াই। একজন ব্যাটিং করলে অন্যজন করতেন বোলিং। সেই স্মৃতিচারণ করে ব্রায়ান বলেন, ”তিন-চার বছর বয়স থেকেই হাতে ব্যাট তুলে নিয়েছি। যমজ ভাই থাকায় খেলার সঙ্গীর অভাব হয়নি কখনো।”

বিশ্বজুড়ে যখন করোনা মহামারি থাবা বসাল, ব্রায়ানের ক্রিকেট ক্যারিয়ারেও তখন স্থবিরতা নেমে আসে। দুই বছর কোনো ম্যাচ না থাকায় তিনি পাড়ি জমান দক্ষিণ আফ্রিকার কিংসউড কলেজে। সেখানে নিজের প্রথম ম্যাচেই ১০০ বলে ১৫১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে জানান দিয়েছিলেন তার দক্ষতা।

এরপর ২০২২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দুই ভাই একসাথে খেললেও ব্রায়ানের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দ্রুত উত্থান ঘটে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। টি-টোয়েন্টি অভিষেকেই তিনি নিজের জাত চেনান এবং ক্যারিয়ারের শুরুতে তিন ফরম্যাটেই সেঞ্চুরির বিরল নজির গড়েন।

ডি ভিলিয়ার্স এবং বিরাট কোহলির ভক্ত এই তরুণ ক্রিকেটারের স্বপ্ন হলো – জিম্বাবুয়েকে আবারো বিশ্বের অন্যতম লড়াকু দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যেন সেই লক্ষ্যেই ছুটছেন বেনেট। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে খেলতে নেমে মোটে সংগ্রহ করেছেন ১৭৫ রান। একবারও আউট না হওয়ায় গড়টাও রানসমই।

অবসরে তিনি সময় কাটান পরিবারের খামারে অথবা গলফ খেলে। বাবার সেই পুরনো নেটের ঘ্রাণ আর শৈশবের জেদকে সম্বল করে তিনি এগিয়ে চলেছেন এক নতুন উচ্চতায়।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link