কোহলির ডাবল, পারবেন মেসি?

একজন ক্রিকেট মাঠে টানা দুইবার আইপিএল উঁচিয়ে ধরলেন। অন্যজন কয়েক দিন পরেই নামছেন ফুটবল বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে।

বিরাট কোহলি ও লিওনেল মেসি। ক্রীড়াবিশ্বের দুই মঞ্চের দুই অবিসংবাদিত রাজা। একজন ক্রিকেট মাঠে টানা দুইবার আইপিএল উঁচিয়ে ধরলেন। অন্যজন কয়েক দিন পরেই নামছেন ফুটবল বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে। মেসি কি পারবেন কোহলির মতোই শিরোপা ধরে রাখতে?

দুই মহাতারকার ক্যারিয়ারের ট্র্যাজেডি আর সাফল্যের গল্পটা একদম একই সুতোয় গাঁথা। কোহলির ক্যারিয়ারে রানের পাহাড় আর আন্তর্জাতিক ট্রফি থাকলেও, একটা আইপিএল ট্রফির অভাব নিয়ে আজীবন তীব্র সমালোচনা সইতে হয়েছে। অবশেষে ১৮ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা আর ট্রল ধুয়েমুছে ২০২৫ সালে বেঙ্গালুরুকে প্রথম আইপিএল জেতান বিরাট, যার ধারাবাহিকতা থাকল এবারও।

ঠিক একইভাবে, মেসির ক্যাবিনেটে শত ট্রফি থাকলেও স্রেফ একটা বিশ্বকাপের অভাব নিয়ে শুনতে হয়েছে শত-সহস্র সমালোচনা। তিনিও ৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে সোনালী ট্রফি এনে দিয়ে নিজের ক্যারিয়ার পূর্ণ করেন।

​অপবাদ ঘুচিয়ে চূড়ায় ওঠার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, তাদের হয়তো আর নতুন করে পাওয়ার কিছু নেই। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে কোহলির এই ব্যাক-টু-ব্যাক শিরোপা জয় মনে করিয়ে দিচ্ছে, আসলে কিংবদন্তিরা কখনোই তৃপ্ত হন না। নিজের নামের প্রতি সুবিচার করে কোহলি প্রমাণ করেছেন, একবার অধরা ট্রফির চাবিকাঠি পেয়ে গেলে জয়ের ক্ষুধা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।

মনোবিজ্ঞানের মতে, আক্ষেপ মেটার পর মানুষের মধ্যে এক ধরণের মানসিক চাপমুক্ত ভাব চলে আসে। কোহলির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে, নিজের কাঁধ থেকে ১৮ বছরের চাপ নেমে যাওয়ার পর তিনি এখন অনেক বেশি স্বাধীন ও ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলছেন।

এই একই মানসিক স্বস্তি এখন লিওনেল মেসির সবচেয়ে বড় শক্তি। ক্যারিয়ারের চিরন্তন আক্ষেপ ঘুচে যাওয়ার পর মেসিও এখন খেলছেন স্রেফ নিজের আনন্দের জন্য, যা তাঁকে আরও বেশি বিপজ্জনক করে তুলেছে।

এখন সব চোখ উত্তর আমেরিকার মেগা ইভেন্টে। কোহলি ক্রিকেটের পিচে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছেন, এবার মেসির মাঠের লড়াই। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা নামবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। ইতিহাসের সেরা ফুটবলারের এই শেষ মিশন কি কোহলির মতোই ব্যাক-টু-ব্যাক শিরোপার গল্প লিখবে? উত্তরটা মিলবে বিশ্বকাপের সবুজ গালিচায়।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link