আটলান্টিকের বুকে ছোট্ট এক দ্বীপরাষ্ট্র। জনসংখ্যা মাত্র ছয় লাখ। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটাই তাদের প্রথম পদচারণা। অথচ সেই অভিষেকেই এমন এক ইতিহাস, যা টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় বিস্ময় হয়ে থাকবে। হিউস্টনে সৌদি আরবকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ক্যাপ ভার্দে।
শুরু থেকেই তারা খেলেছে নির্ভীক ফুটবল। ১৫টি শট নিয়ে সৌদি রক্ষণকে বারবার কাঁপিয়েছে। ৭৪ মিনিটে লারোস দুয়ার্তের নিশ্চিত গোল অবিশ্বাস্য সেভে ফিরিয়ে দেন মোহাম্মদ আল-ওয়াইস। অন্যদিকে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত ক্যাপ ভার্দের গোলপোস্ট আগলে রেখেছেন অধিনায়কসুলভ ভোজিনহা। তার দুর্দান্ত কয়েকটি সেভই ইতিহাস গড়ার ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে কে ভেবেছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে গ্রুপ থেকেই বিদায় নেবে? আর প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা ক্যাপ ভার্দে শেষ ষোলোয় উঠে যাবে? ফুটবল আবারও প্রমাণ করল, নাম নয়—মাঠেই লেখা হয় আসল গল্প।

স্পেনকে রুখেছে, উরুগুয়ের বিপক্ষে দুই গোল পিছিয়ে থেকেও ফিরেছে, আর শেষ ম্যাচে সৌদি আরবকে থামিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউটে উঠেছে তারা।
এবার সামনে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কাগজে-কলমে শক্তির ব্যবধান বিশাল, কিন্তু বিশ্বকাপের ইতিহাস বলে—সবচেয়ে বড় অঘটনগুলো জন্ম নেয় ঠিক এমন দলগুলোর হাত ধরেই। উরুগুয়েকে বিদায়ের পথে ঠেলে দেওয়া ক্যাপ ভার্দে কি এবার মেসিদেরও নতুন এক পরীক্ষায় ফেলতে পারে? ফুটবলের রূপকথা এখনও শেষ হয়ে যায়নি।

Share via:










