বিপিএলে ‘অধিনায়ক বদল কাণ্ড’

প্রথম দুই ম্যাচে নোয়াখালীর এক্সপ্রেসের অধিনায়ক হয়ে দায়িত্ব সামলেছিলেন সৈকত আলী। তবে তৃতীয় ম্যাচে এসে একাদশে জায়গাই হয়নি তাঁর। দায়িত্ব কাঁধে ওঠে হায়দার আলীর। তাতেই আরও এক পুরনো রোগের ছোঁয়া লাগলো এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল)। আসরের মাঝপথে অধিনায়ক বদলের অভ্যাসটা যে ছাড়তে পারেনি বিপিএল।

প্রথম দুই ম্যাচে নোয়াখালীর এক্সপ্রেসের অধিনায়ক হয়ে দায়িত্ব সামলেছিলেন সৈকত আলী। তবে তৃতীয় ম্যাচে এসে একাদশে জায়গাই হয়নি তাঁর। দায়িত্ব কাঁধে ওঠে হায়দার আলীর। তাতেই আরও এক পুরনো রোগের ছোঁয়া লাগলো এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল)। আসরের মাঝপথে অধিনায়ক বদলের অভ্যাসটা যে ছাড়তে পারেনি বিপিএল।

একটু পেছনের ইতিহাস ঘাটা যাক। গত আসরে অধিনায়ক বদলের বিতর্ক সামনে এনেছিল দূর্বার রাজশাহী। নিয়মিত অধিনায়ক এনামুল হক বিজয়কে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে আনা হয়েছিল তাসকিন আহমেদকে। কারণ দর্শনে ব্যর্থতা নয়, দেখানো হয়েছিল ব্যাটিংয়ে বিজয়ের মনোযোগ বাড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত। বলে রাখা ভালো, সেবার ব্যাট হাতে বেশ ছন্দেই ছিলেন তিনি।

২০২৪ সালের বিপিএলেও সিলেট স্টাইকার্সকে দেখা গিয়েছিল পরিবর্তন আনতে। তবে নিরুপায় হয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা পাঁচ ম্যাচ খেলেই বিপিএল ছাড়েন। বাকী সময় মোহাম্মদ মিঠুনকে দেওয়া হয় দায়িত্বভার।

তবে সবচেয়ে বিবর্তকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল বিপিএলের অষ্টম আসরে, অর্থাৎ ২০২২ সালে। সেবার চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স দলটির অধিনায়ক ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বেশ ঘটা করেই তাঁকে বসানো হয়েছিল এই দায়িত্বে। তবে হুট করেই পঞ্চম ম্যাচে এসে সরিয়ে দেওয়া হয় মিরাজকে। দায়িত্ব পড়ে নাইম ইসলামের কাঁধে। এখানেই শেষ নয়, আবারও তারা পরিবর্তনের পথ বেছে নেয়। নাইমের বদলে আফিফকেও দেখা যায় দায়িত্বে।

২০১৯ সালের বিপিএল আসর। বিপিএলের স্বর্ণালী সময়ের গোধূলি লগ্ন বোধহয় তখনই। সেবার তারকাদের ভিড় লেগেছিল বিপিএলে। সিলেট সিক্সার্স নিজেদের ডেরায় ভিড়িয়েছিল ডেভিড ওয়ার্নারকে। তবে একের পর এক হার সঙ্গী হয়েছিল সেবার। ওয়ার্নারকে নিয়ে বেশ জলঘোলাও হয়েছিল। তাঁর পরিবর্তে দায়িত্ব পেয়েছিলেন সোহেন তানভীর। তবে স্থায়িত্বকাল ছিল এক ম্যাচ। এরপর আবারও নেতৃত্বে বদল আনা হয়, দায়িত্ব নেন অলক কাপালী।

একই আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স দলও অধিনায়কত্ব নিয়ে বেশ বিপাকেই পড়েছিল। আসর শুরুর আগে সবাই নিশ্চিত ছিল তামিম ইকবাল হবেন দলটির অধিনায়ক। তবে অস্ট্রেলিয়া থেকে উড়ে এসে স্টিভ স্মিথ নিয়ে নেন দায়িত্ব। স্থায়িত্বকাল যদিও ছিল দুই ম্যাচের জন্য, কেননা চোটের কারণে ফিরতে হয়েছিল দেশে। এরপর আবার তামিমের শরণাপন্ন হয় ম্যানেজমেন্ট। তবে তিনি না করে দেওয়ায় দায়িত্ব নেন ইমরুল কায়েস।

২০১৫ সালেও একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল বিপিএল মঞ্চে। সেবার সিলেট সুপারস্টার দলের দায়িত্বে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। তবে ব্যর্থতার দায়ে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকেও। দায়িত্ব পড়ে শহীদ আফ্রিদির উপর। বিপিএলে এমন ‘অধিনায়ক বদল কান্ড’ প্রতিবারই কমবেশি দেখা যায়। এবারও তাঁর ব্যতিক্রম হয়নি।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link