ভারতীয় ক্রিকেটে অধিনায়ক ও কোচের জুটি সবসময়ই দলকে দেখিয়েছে সাফল্যের পথ। বিরাট কোহলি এবং রবি শাস্ত্রীর সময় তা স্পষ্ট ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় রাহুল দ্রাবিড়ের সাথে রোহিত শর্মার জুটিও ছিল বেশ জমজমাট। এখন তাঁদের পথই অনুসরণ করছেন গৌতম গম্ভীর, তাঁর তুরুপের তাস শুভমান গিল।
কোহলি-শাস্ত্রীর সূচণা পর্বটা ছিল এক ভিন্ন ধারার। দু’জনের জুটি ভারতের টেস্ট ক্রিকেটে এনে দিয়েছিল এক নতুন আস্থা। ২০১৯ সালের অস্ট্রেলিয়া সিরিজ জয় সেই যুগের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। শাস্ত্রী-কোহলি যুগের বিশেষত্ব ছিল—সমন্বয়, দৃঢ়তা, এবং বিতর্কহীন নেতৃত্ব। এই সময়কাল ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি স্থায়ী ছাপ রেখে গিয়েছে।
কোহলির অধিনায়কত্ব শেষ হওয়ার পর, বিসিসিআই একক অধিনায়ক নীতি প্রবর্তন করে। রাহুল দ্রাবিড় দায়িত্ব নেন প্রধান কোচ হিসেবে। কোহলি টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর, ভারতের নেতৃত্বের ভার চলে আসে রোহিত শর্মার হাতে। আইপিএল-এ তার অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের প্রমাণ এবং দলের প্রতি দায়িত্বশীল দৃষ্টি তাকে ভারতের সর্ব-ফরম্যাট অধিনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

রোহিত-দ্রাবিড় যুগের শুরুটা সরল ছিল, কিন্তু তাতেই ছিল সম্ভাবনার বীজ। ২০২২ টি২০ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও, দু’জন দ্রুত ভারতীয় ক্রিকেটের মানসিকতা বদলে দেন। দ্রাবিড়ের নিখুঁত কৌশল এবং রোহিতের সাহসী নেতৃত্বে দল হয়ে ওঠে ভীতিহীন, আক্রমণাত্মক এবং সাফল্যের পিপাসু।
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারত পৌঁছায়—এটি ছিল তাঁদের জুটির প্রথম বড় প্রমাণ। এরপর ২০২৪ টি২০ বিশ্বকাপে জয় এনে দ্রাবিড়ের কোচিং যুগ শেষ হয় সাফল্যের মঞ্চে দাঁড়িয়ে।
এখন নতুন অধ্যায় অবশ্য লেখা শুরু হয়েছে। যার মূল চরিত্রে গম্ভীর এবং শুভমান গিলের জুটি। যাত্রার শুরুটা বেশ ভালোভাবেই করেছেন তাঁরা। সেই সাথে আভাস দিচ্ছেন আরও এক সম্ভাবনাময়ী সফল যাত্রার। একটা সময় কোহলির পাশে ভরসার দেয়াল হয়েছিলেন শাস্ত্রী, রোহিতকে আগলে রেখেছেন দ্রাবিড়—এবার সেই ভার গম্ভীরের উপর, গিলকে তিনিও নিশ্চয় পথ দেখাবেন, আগলে রাখবেন।












