বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরু হওয়ার আগেই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। এই দলের কোচিং স্টাফ ও সাপোর্ট স্টাফ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাবিবুল বাশার ম্যানেজার ও মেন্টরের পদ ছেড়ে দেওয়ায় ফিসফাস জোরালো হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
এক কোটি ১০ লাখ টাকা দিয়ে নাঈম শেখকে নিয়েও স্বস্তিতে নেই চট্টগ্রাম রয়্যালস। চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজির কোচিং স্টাফ, কর্মকর্তা ও সাপোর্ট স্টাফদের তালিকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতি দমন বিভাগে দেওয়া হয়েছে ‘ব্যাকগ্রাউন্ড’ চেক করে দেখার জন্য। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে ব্রাদার্স ইউনিয়নের কর্মকর্তা আমিন খান জড়িত বলে সন্দেহ বিসিবি কর্মকর্তাদের।
রংপুর রাইডার্স, ঢাকা ক্যাপিটালস, নোয়াখালী এক্সপ্রেস, সিলেট টাইটান্স, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স জাতীয় পর্যায়ের কোচ নিয়োগ দিলেও চট্টগ্রাম রয়্যালস বিভাগীয় কোচ মমিনুল হককে নিয়োগ দিয়েছে। ব্রাদার্স ইউনিয়নের কোচ ছিলেন তিনি। বিসিবি থেকে জানা গেছে, দলটির একজন কর্মকর্তা আমিন খানের আত্মীয়। যদিও, আমিন খানের দাবি টিম ম্যানেজমেন্টে তাঁর কোনো আত্মীয় নেই।

ব্রাদার্স ইউনিয়নের এই কর্মকর্তাকে নিয়ে সন্দেহের কারণ দুর্বার রাজশাহীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। বিসিবি দুর্নীতি দমন বিভাগের লাল তালিকায় আমিন খানের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। বিসিবি মনে করে পরোক্ষ ভাবে চট্টগ্রাম দলের সাথে তিনি এবারও সম্পৃক্ত আছেন।
কোচ নিয়োগ নিয়ে অসন্তোষ আছে, এর মধ্যে আগুনে ঘিঁ ঢেলেছে হাবিবুল বাশার সুমানের প্রস্থান। এমনকি নিলাম থেকেও যে দলটা গঠন করা হয়েছে, সেটাও খুব একটা ভারসাম্যপূর্ণ নয়। লঙ্কান ক্রিকেটার অ্যাঞ্জেলো পেরেরা ইনজুরি নিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন।
বিপিএলে পাঁচ বছরের জন্য চট্টগ্রামের এই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নেওয়া হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি, ব্যাংক জামানত ইস্যুতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। ফ্র্যাঞ্চাইজি বাতিল করে বিসিবি নিজে চালানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এত দুর্বলতা থাকার পরও চট্টগ্রামকে ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বিসিবি নিজেও।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ইন্টিগ্রিটি ইস্যু প্রশ্ন ওঠা একটি দলের পাঁচ বছর বিপিএলে টিকে থাকা কঠিন হতে পারে। যদিও, দলটির আব্দুল কায়ুম রাশেদ একটি পডকাস্টে দাবি করেছেন, সততার ভিত্তিতে একটি সম্মানজনক ফ্র্যাঞ্চাইজি গড়ার লক্ষ্য নিয়েই তাঁরা বাংলাদেশ ক্রিকেটে এসেছে।
দলের ভেতরে অনৈতিক কিছু ঘটলে তাঁরা নিজে থেকেই সরে দাঁড়াবে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে বিপিএল শুরুর আগেই কি সরে দাঁড়াবে চট্টগ্রাম রয়্যালস?










