কোভিড-পরবর্তী সময়ে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে(সিপিএল) একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে কোচ হওয়ার প্রস্তাব পান আজহার মাহমুদ। সবকিছু ঠিকঠাক এগোচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই থেমে যায় আলোচনা। পরে তিনি জানতে পারেন, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হওয়ার কারণেই তাকে নিতে চায়নি সেই ফ্র্যাঞ্চাইজি। নাম প্রকাশ না করলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটি ছিল ভারতীয় মালিকানাধীন।
উইজডেন ক্রিকেট উইকলিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাহমুদের দাবি, এখন বিশ্ব ক্রিকেটের অনেক কিছুই আইপিএল ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত। আইপিএল-সংযুক্ত মালিকরা শুধু ভারতেই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইংল্যান্ড, প্রায় সব বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেই বিনিয়োগ করছে। ফলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য সুযোগের দরজা ক্রমেই সংকীর্ণ হয়ে আসছে বলে আশঙ্কা তার।
সাম্প্রতিক সময়ে দ্য হান্ড্রেডেও আইপিএল-ঘনিষ্ঠ গ্রুপগুলোর। এমআই লন্ডন, সানরাইজার্স লিডস, ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস ও সাউদার্ন ব্রেভ, সবকটিই কোনো না কোনোভাবে আইপিএল মালিকানার ছায়ায়। এখানেই প্রশ্ন তুলছেন মাহমুদ, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়রা কি তবে এখানেও উপেক্ষিত হবেন?

১৯৯৬ থেকে ২০০৭, এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের হয়ে ১৬৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন মাহমুদ। কাউন্টি ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। ২০১১ সালে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর ইংল্যান্ডে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবেও খেলেছেন। পরে পাকিস্তান দলের বোলিং কোচ এবং ২০২৫ সালে স্বল্প সময়ের জন্য প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু পাকিস্তান সেটআপে সাম্প্রতিক সম্পৃক্ততার কারণেই এখন আইপিএল-সম্পৃক্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।
মাহমুদের কথায়, ‘একজন কোচ হিসেবে আইপিএল মালিকানাধীন দলে ঢোকা খুব কঠিন। একই বিষয় খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।’ তার মতে, এটি শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, একটি বড় কাঠামোগত সমস্যার ইঙ্গিত।
বিশ্ব ক্রিকেট আজ এক নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে। ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানার বিস্তার যেমন খেলাটিকে বৈশ্বিক করেছে, তেমনি তৈরি করেছে নতুন বিতর্কও। নির্দিষ্ট একটা দেশের ক্রিকেটাররা সুযোগ পান না রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে। ব্যাপারটা বাংলা প্রবাদের মতোই, জোর যার মুল্লুক তার।












