ক্রিকেট মাঠে ব্যাটসম্যান আর বোলারের লড়াইটা চিরন্তন। কিন্তু কিছু দ্বৈরথ ছাপিয়ে যায় জয়-পরাজয়ের সাধারণ সমীকরণকে, হয়ে ওঠে এক মনস্তাত্ত্বিক আখ্যান। নব্বইয়ের দশকের ক্রিকেটবিশ্ব এমনই এক বিষাদময় রূপকথার সাক্ষী হয়েছিল। যার একপাশে ছিলেন লেগ স্পিনের জাদুকর শেন ওয়ার্ন, আর অন্যপাশে প্রোটিয়া ব্যাটিংয়ের ধ্রুপদী শিল্পী ড্যারিল কালিনান।
শোনা যায়, ওয়ার্ন মাঠে নামলেই কালিনানকে আউট করার জন্য মরিয়া হয়ে থাকতেন। আর ২২ গজে এই অজি কিংবদন্তিকে দেখলেই যেন পা কাঁপত কালিনানের। ক্যারিয়ারজুড়ে রেকর্ড ১২ বার ওয়ার্নের জাদুকরী ঘূর্ণিতে পরাস্ত হওয়া কালিনান নিজেই একবার আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘কেন জানি না, ওয়ার্ন আমার জন্য বরাবরই বড্ড বেশি কঠিন ছিলেন।’
মাঠের লড়াইটা কেবল ব্যাটে-বলেই সীমাবদ্ধ ছিল না, গড়িয়েছিল কথার যুদ্ধেও। একবার কালিনান ক্রিজে আসতেই ওয়ার্ন স্লেজিং শুরু করেন, ‘তোমার উইকেট নেওয়ার জন্য আমি দুই বছর ধরে অপেক্ষা করছি!’ শান্ত মেজাজের কালিনানও ছেড়ে দেননি। ওয়ার্নের মুটিয়ে যাওয়া নাদুসনুদুস শরীরের দিকে ইঙ্গিত করে পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন, ‘মনে হচ্ছে এই পুরো সময়টা তুমি কেবল খেয়েই পার করেছ!’

অন্য সব দলের সাথে ব্যাট হাতে দাপিয়ে বেড়ালেও অস্ট্রেলিয়ার সামনে বরাবরই যেন ব্যর্থ ছিলেন কালিনান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল মাত্র ১২.৭৫! যা তাঁর অমিত প্রতিভার সাথে একেবারেই বেমানান। আর তার নেপথ্যের কারিগরটা যে ওয়ার্ন, তা বলাই বাহুল্য।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সেঞ্চুরি হাঁকানো এই প্রোটিয়াকে ভাবা হতো কিংবদন্তি গ্রায়েম পোলকের উত্তরসূরি। পেসারদের বিপক্ষে তাঁর ‘অন দ্য আপ’ কাভার ড্রাইভ ছিল যেন আভিজাত্যের প্রতীক
লাল বলের ক্রিকেটে ৭০ ম্যাচে ৪৪.২১ গড়ে ৪৫৫৪ রান করেছেন তিনি। হাঁকিয়েছেন ১৪টি শতক এবং ২০টি অর্ধশতক। ওয়ানডেতে ১৩৮ ম্যাচে তিন শতক এবং ২৩টি অর্ধশতকে ৩৮৬০ রান করেছেন তিনি।

পরিসংখ্যানই বলে দেয় টেস্ট এবং ওয়ানডে উভয় ফরম্যাটেই কালিনান ছিলেন এক বিশ্বমানের ব্যাটার। তবুও ক্যারিয়ারের সূচনালগ্ন থেকেই তাঁর অনন্য সব দক্ষতা ও প্রতিভার যে জয়গান উঠেছিল ক্রিকেটপাড়ায়, মোটেই তিনি তা পূর্ণ করতে পারেননি।তবুও ক্রিকেটের ইতিহাসে তিনি চিরকাল এক ‘সুইট টাইমার’ হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।










