বাবার উত্তরাধিকার থেকে ওল্ড ট্রাফোর্ডের ঘাস

ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু চরিত্র থাকে যারা কেবল সংখ্যা দিয়ে নিজেদের পরিমাপ করেন না, বরং মাঠের সবুজ গালিচায় এঁকে যান শিল্পের আলপনা। তেমনই এক নাম হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন। ফুটবল ইতিহাসে যাঁকে মনে রাখা হবে তাঁর দূরপাল্লার বুলেট শট, নিখুঁত ড্রিবলিং আর মাঝমাঠে শাসন করার অদম্য ক্ষমতার জন্য।

ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু চরিত্র থাকে যারা কেবল সংখ্যা দিয়ে নিজেদের প্রমাণ করেন না, বরং মাঠের সবুজ গালিচায় এঁকে যান শিল্পের আলপনা। তেমনই এক নাম হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন। ফুটবল ইতিহাসে যাঁকে মনে রাখা হবে তাঁর দূরপাল্লার বুলেট শট, নিখুঁত ড্রিবলিং আর মাঝমাঠে শাসন করার অদম্য ক্ষমতার জন্য।

১৯৭৫ সালে আর্জেন্টিনার লা পালাটায় জন্ম নেওয়া ভেরনের রক্তেই ছিল ফুটবল। তাঁর পিতা হুয়ান রেমন ভেরনও ছিলেন কিংবদন্তি, যাকে ডাকা হতো ‘ডাইনি’ বলে। বাবার সেই ফুটবলীয় উত্তরাধিকার বয়ে নিয়ে আসা সেবাস্তিয়ান ভেরন ভক্তদের কাছে পরিচিতি পান ‘লা ব্রুজিতা’ বা ‘ছোট্ট ডাইনি’ হিসেবে। বাবার উত্তরাধিকার নিয়েই এস্তুদিয়ান্তসের জার্সিতে ভেরনের পথচলা শুরু। ক্লাবটিকে দ্বিতীয় বিভাগ থেকে প্রিমিয়ারে ফিরিয়ে এনেই জানান দিয়েছিলেন নিজের আগমনী বার্তা। এরপর বোকা জুনিয়র্সের সংক্ষিপ্ত অধ্যায় শেষ করে পাড়ি জমান ইউরোপের আঙিনায়।

ইতালিয়ান ক্লাব স্যাম্পদোরিয়া, পার্মা এবং লাজিওতে ভেরন ছিলেন মধ্যমাঠের অবিসংবাদিত রাজা। ১৮৯ ম্যাচে ২৫ গোল আর অগণিত অ্যাসিস্টে নিজেকে চেনান অনন্য উচ্চতায়। ২০০১ সালে রেকর্ড ২৮ মিলিয়ন পাউন্ডে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন তাঁকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে নিয়ে আসেন।

যদিও ইংলিশ ফুটবলের গতির সাথে তাঁর লড়াইটা ছিল অম্ল-মধুর। তবে ফার্গুসনের আস্থা ছিল অটুট। এক সংবাদ সম্মেলনে সমালোচকদের উদ্দেশ্যে ক্ষিপ্ত ফার্গুসনের সেই বিখ্যাত উক্তি আজও ভেরন ভক্তদের মুখে মুখে ফেরে “সে একজন অসাধারণ ফুটবলার, তোমরা সবাই গর্দভ বলেই তা বোঝো না!”

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে চেলসিতে যোগ দেওয়াকে পরবর্তীতে ভেরন নিজের জীবনের অন্যতম ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। চেলসি ও ইন্টার মিলানে ধারে খেলার পর, শেষ পর্যন্ত মন টানে নাড়ির টানে। ফিরে যান সেই এস্তুদিয়ান্তসে। ২০১৭ সাল পর্যন্ত সেখানে খেলে ফুটবলকে বিদায় জানালেও এখনো ক্লাবের স্পোর্টস ডিরেক্টর হিসেবে নিজের ফুটবলীয় প্রজ্ঞা বিলিয়ে যাচ্ছেন।

​আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ৭২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভেরন ছিলেন মধ্যমাঠের অতন্দ্র প্রহরী। ২০১০ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রশিক্ষণেও খেলেছেন তিনি। আকাশী-নীল জার্সিতে তাঁর গোল সংখ্যা সাতটি হলেও, তাঁর মূল অবদান ছিল মাঝমাঠ থেকে আক্রমণের বিষদাঁত তৈরি করে দেওয়া।

ফুটবল ইতিহাসে ভেরন কেবল একজন মিডফিল্ডার নন, তিনি ছিলেন আভিজাত্য ও শৈল্পিক ফুটবলের এক জীবন্ত বিজ্ঞাপন। সময় ফুরিয়ে গেলেও তাঁর সেই দূরপাল্লার বুলেট শট আর নিখুঁত ড্রিবলিং আজও ফুটবল প্রিয়দের হৃদয়ে স্মৃতি হয়ে দোলা দেয়।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link