বিরাটের হাতেতালি, মিচেলের অনবদ্য সেঞ্চুরি

তাই এদিন যখন ১৩৭ রানে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নের পথে পা বাড়িয়েছেন মিচেল, তখন তাকে অভিবাদন জানাতে কার্পণ্য করেননি বিরাট কোহলি।

হাত তালি দিয়ে অভিবাদন জানাচ্ছেন বিরাট কোহলি। তার দিকে তাকিয়ে স্মৃত হাসিও দিলেন ড্যারিল মিচেল। এরপরই মজার ছলে তাকে বাউন্ডারির বাইরে ঠেলে পাঠালেন বিরাট। যেন বলতে চাইলেন, ‘যাও ভাই অনেক হয়েছে!’ সত্যিকার অর্থেই ড্যারেল মিচেল ভারতের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে ভারতের গলার কাটায় রুপান্তরিত হয়েছেন ড্যারিল মিচেল। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটিতে তো তার ব্যাটই লিখেছিল ভারতের পরাজয়ের অধ্যায়। সিরিজ নির্ধারনী তৃতীয় ম্যাচেও যেন সেই একই ঘটনার অবতারণা করতে চাইলেন মিচেল। স্রেফ ৫৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে স্বল্পতেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা জেগেছিল নিউজিল্যান্ড শিবিরে।

কিন্তু ড্যারিল মিচেল ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। ভারতীয় বোলারদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি পাল্টা আক্রমণের পন্থা বেছে নিলেন। সাথে যুক্ত হলেন তারই সতীর্থ গ্লেন ফিলিপস। দুইজনে মিলে স্রেফ ৩১ ওভারে ২১৯ রান যুক্ত করলেন নিজেদের স্কোরবোর্ডে। দুইজনই তুলে নিয়েছেন শতক।

দু’জনের যুগলবন্দীতে দুইজনই ছিলেন আগ্রাসী। ১০০ বলে ১১০ রান জুড়ে দেন মিচেল, অন্যদিকে ফিলিপস ৮৮ বলে তোলেন ১০৬ রান। পরিস্থিতির বিচারে প্রায় সাতের উপরের রানরেটে রান তুলেছেন এই দুইজনে। ভারতীয় বোলাররা যখন চেপে বসার বাসনা বুনতে শুরু করেছেন, সেই মুহূর্তেই মিচেলের দৃঢ়তা আর ফিলিপসের আগ্রাসনে ঘুরে দাঁড়ায় নিউজিল্যান্ড।

তাদের সেই জুটিতে ভর দিয়ে ৩৩৭ অবধি পৌঁছায় ব্ল্যাকক্যাপসদের পুঁজি। অথচ সেই মুহূর্তে চাপে ভেঙে পড়লে ২০০ ছাড়ানো কঠিন হয়ে যেত সফরকারীদের জন্য। আর তাইতো ড্যারিল মিচেলের উপর ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিরাটদের বিরক্ত হওয়াই স্বাভাবিক। তাছাড়া ভারতের বিপক্ষে মিচেলের ধারাবাহিকতা নিউজিল্যান্ডের জন্য যতটা আনন্দের, ততটাই তো অস্বস্তির ভারতের জন্য।

কেননা সর্বশেষ চার ওয়ানডে ইনিংসের মধ্যে তিনটিতেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন মিচেল ভারতের বিপক্ষে। একটিতে আউট হয়েছেন ৮৪ রানে। তাই এদিন যখন ১৩৭ রানে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নের পথে পা বাড়িয়েছেন মিচেল, তখন তাকে অভিবাদন জানাতে কার্পণ্য করেননি বিরাট কোহলি।

Share via
Copy link