হাসান মুরাদ, আইরিশ রানের ধারার নিরব প্রতিবন্ধকতা

অনর্থক কোন ঝুঁকি না নিয়ে নিজের উপর ভরসা রেখে বল ছুড়েছেন মুরাদ। তাতে করে দিনশেষে খানিকটা স্বস্তি নিয়ে অন্তত হয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গী। 

১০৮ তম ক্রিকেটার হিসেবে হাসান মুরাদ মাথায় তুলেছেন মর্যাদার ওই টেস্ট ক্যাপ। প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই তিনি বাংলাদেশের পক্ষে নিরবে অবদান রেখে গেছেন। দিনশেষে হয়ত উইকেট শিকারের ট্যালি দেখে মেহেদী হাসান মিরাজকেই মনে হবে দিনের সেরা বোলার, কিন্তু দুই উইকেট পাওয়া মুরাদ যে রীতিমত আপ্রাণ চেষ্টায় টেনে রেখেছিলেন আয়ারল্যান্ডের রানের লাগাম।

সিলেট টেস্ট শুরুর আগে ধারণা করা হয়েছিল বাংলাদেশ খেলতে নামবে তিনজন পেসার নিয়ে। স্বাভাবিকভাবেই অভিজ্ঞতার বিচারে দুই স্পিনার হিসেবে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের নামটাই ছিল সবার আগে। কিন্তু খানিকটা বিস্ময় ছড়িয়ে হাসান মুরাদকে দেওয়া হয়েছে সুযোগ। সেই সুযোগের সদ্ব্যবহারই করেছেন তরুণ এই বা-হাতি স্পিনার।

এদিন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ দুইটি উইকেট তুলে নিয়েছেন হাসান মুরাদ। কার্টিস ক্যাম্ফার ও লরকান টাকার- এই দুই আইরিশ ব্যাটার একটা প্রতিরোধ গড়ে ফেলেছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। ১২১ বলের সেই প্রতিরোধ থেকে তারা যুক্ত করেন ৫১ রান। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে এদিন ফিফটি হাঁকিয়েছেন পল স্টার্লিং ও কেড কারমাইকেল।

এই দুই জনের বিদায়ের পর টাকার ও ক্যাম্ফারের জুটি বাংলাদেশকে রেখেছিল ভীষণ পীড়ায়। সেই পীড়া থেকে মুক্তি এনে দেন হাসান মুরাদ। তাছাড়া মাঝের সময়টাতে বেশ আঁটসাঁট বোলিং করেছেন বা-হাতি এই বাংলাদেশি স্পিনার। এদিন পূর্ণ ৯০ ওভারই ব্যাটিং করেছে আয়ারল্যান্ড।

যার মধ্যে ২০ ওভার একাই করেছেন হাসান মুরাদ। এই সময়ে তিনি রান বিলিয়েছেন ২.৩৫ ইকোনমি রেটে। পাঁচটি মেইডেন ওভার আদায় করে আয়ারল্যান্ডের খুব সহজেই রান নেওয়া প্রতিহত করেছেন হাসান মুরাদ। আরও একটি উইকেট পেতে পারতেন তিনি। কিন্তু স্লিপে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত ক্যাচ মিস করেন। নতুবা আয়ারল্যান্ডকে কোণঠাসা প্রায় করেই ফেলতে পারতেন মুরাদ তথা বাংলাদেশের বোলাররা।

এছাড়া লেগ বিফোরের আবেদনে উইকেট মুরাদের ঝুলিতে যুক্ত হলেও, রিভিউ বাঁচিয়ে দেয় লরকান টাকারকে। পরে অবশ্য সেই টাকারকে মুরাদই ফিরিয়েছিলেন লিটন দাসের সহয়তায় স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে। অভিষেক টেস্টের প্রথমদিন প্রত্যাশামাফিকই পারফরম করেছেন মুরাদ।

অভিষেকের চাপকে পেছনে ফেলে নিজের কাজটা করে গেছেন দারুণভাবে। আয়ারল্যান্ডকে সাবলীল হতে দেননি খুব একটা। অনর্থক কোন ঝুঁকি না নিয়ে নিজের উপর ভরসা রেখে বল ছুড়েছেন মুরাদ। তাতে করে দিনশেষে খানিকটা স্বস্তি নিয়ে অন্তত হয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গী।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link