ডি ককের নির্মম শতক!

পুরনো সে দিনের কথা সে কি ভোলা যায়? না যায় না, তাই তো সময়ের অতল গহ্বরে তলিয়ে গিয়েও উঠে এসেছেন কুইন্টন ডি কক, আর ব্যাট হাতে সেই পুরনো দিনের মতোই ঝড় তুলছেন, আগ্রাসনের লেলিহান শিখা বাইশ গজে নিয়ে এসেছেন। যার সামনে পুড়ে ছারখার ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

পুরনো সে দিনের কথা সে কি ভোলা যায়? না যায় না, তাই তো সময়ের অতল গহ্বরে তলিয়ে গিয়েও উঠে এসেছেন কুইন্টন ডি কক, আর ব্যাট হাতে সেই পুরনো দিনের মতোই ঝড় তুলছেন, আগ্রাসনের লেলিহান শিখা বাইশ গজে নিয়ে এসেছেন। যার সামনে পুড়ে ছারখার ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

প্রিয় সেঞ্চুরিয়নের ময়দান। একটা সেঞ্চুরি না হলেই যে নয়। আগেও তো ব্যাট উঁচিয়ে ধরেছেন এই মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে। ৪৯ বলে ১১৫ রানের ইনিংস খেলে যেন বলে গেলেন, ‘বন্ধু তোমায় আমি ভুলিনি।’

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া লক্ষ্যটা ছিল ২২২ রানের। জিততে হলে পাহাড়ের মতো দণ্ডায়মান বাধা টপকাতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। তবে অভিজ্ঞ সেনানি পালন করলেন অগ্রণী ভূমিকা। সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে ব্যাট চালাতে থাকলেন আপন মেজাজে।

১০ ছক্কা ছয় চার, স্ট্রাইক রেট ২৩৫। এই সংখ্যাটায় বুঝিয়ে দেয় ঝড়ের প্রকোপ কতটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল। ফিফটি আসে মাত্র ২১ বলে, সেখানে ডট বল সংখ্যাটা ছিল মাত্র আটটি। ক্যারিবীয় বোলাররা অসহায় চোখে তাকিয়ে দেখেছে ডি ককের নির্মমতা।

এই ইনিংস খেলে ডি কক শুধু রানের হিসাব নয়, ইতিহাসও রচনা করেছেন। এদিন নিজের প্রথম বাউন্ডারি হাঁকিয়েই ফাফ ডু প্লেসিকে টপকে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ১২ হাজার রান অতিক্রম করেছেন। ৪৩০ ম্যাচে ৪১৬ ইনিংসে তাঁর মোট রান এখন ১২,১১৩।

প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর মাঠটা যখন সেঞ্চুরিয়ন তখনও ডি কক জ্বলে উঠবেনই। এটা যে চিরন্তন এক সত্য। অন্তত পরিসংখ্যানের পাতা সে কথাই বলে। ডি ককের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি সংখ্যা দুটি। দুটোই এই সেঞ্চুরিয়নে আর প্রতিপক্ষ দুবারই ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

প্রত্যাবর্তনের পর থেকে ডি কক যেন বলে যাচ্ছেন, ‘সময়টা আমার’। প্রতিটি চার কিংবা ছক্কা অথবা সেঞ্চুরির পর ব্যাট উঁচিয়ে ধরাটা যেন এক নিয়ম ভাঙার গান। বিশ্বকাপের আগে এমন জ্বালাময়ী ফর্ম যে প্রতিপক্ষ শিবিরে চিন্তার চিহ্ন ফুটিয়ে তুলছে।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link