মাঠের লড়াই শেষ হয়েছে গত ২৩ জানুয়ারি। গ্যালারির গর্জন থেমেছে, ফ্লাডলাইটের আলোও নিভেছে আজ দুই মাসের বেশি হলো। নিয়ম অনুযায়ী, বিপিএল ফাইনালের পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে ক্রিকেটারদের পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষ হলেও ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নিয়ে লুকোচুরি থামছে না ঢাকা ক্যাপিটালসের। পাওনা পরিশোধের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এখনো ক্রিকেটারদের বড় অঙ্কের টাকা বকেয়া রেখেছে।
বারবার তাগাদা দিয়েও ঢাকার কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলছে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বারবার পাঠানো চিঠিরও কোনো সদুত্তর দেয়নি তারা। ফলে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে আয়োজকদের। এবার সরাসরি কঠোর পথে হাঁটার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
বিপিএলের বাকি ছয়টি দল ইতোমধ্যে তাদের ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক চুকিয়ে দিলেও ব্যতিক্রম কেবল ঢাকা। জানা গেছে, ক্রিকেটারদের মোট পাওনার মাত্র ২৫ শতাংশ পরিশোধ করেছে তারা। এখনো প্রায় তিন কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে।

সেক্ষেত্রে ক্রিকেটারদের বকেয়া পরিশোধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিসিবি। এ বিষয়ে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা চলতি সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি। বিসিবির কাছে ঢাকার দেওয়া পাঁচ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি এবং সমপরিমাণ মূল্যের একটি চেক জমা আছে। আজ বা কালকের মধ্যে তারা পাওনা শোধ না করলে আমরা ওই চেক বা গ্যারান্টি ভাঙিয়ে ক্রিকেটারদের টাকা বুঝিয়ে দেব।’
বিপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যর্থ হলে বিসিবি তাদের আমানত থেকে অর্থ কেটে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ঢাকা ক্যাপিটালসের ক্ষেত্রে সেই অস্ত্র ব্যবহারের সময়ই হয়তো চলে এসেছে। ক্রিকেটারদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে বিসিবি এখন আর আলোচনার টেবিলে বসে সময় নষ্ট করতে রাজি নয়।
খেলার মাঠের শৃঙ্খলার মতোই মাঠের বাইরের আর্থিক স্বচ্ছতা রক্ষায় বিসিবির এই কঠোর অবস্থান দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে একটি শক্ত বার্তা দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বিসিবির এই চরমপত্রের পর ঢাকা ক্যাপিটালস শেষ মুহূর্তে নিজেদের ইমেজ রক্ষায় এগিয়ে আসে কি না।












