প্রেসিডেন্ট বক্সেই আগুন লাগল। তোপের মুখে পড়লেন এম নাজমুল ইসলাম। একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি বলছে, খোদ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সহ-সভাপতি আঙুল উঁচিয়ে সতর্ক করে দেন ফারুক আহমেদকে। তাঁর সাথে আরেক বোর্ড পরিচালক খালেদ মাসুদ পাইলটকেও যোগ দিতে দেখা যায়।
তাহলে কি যে বোর্ড নিজেদের অর্থ ব্যবস্থাপনা সামলাতে তাঁকে ‘আদর’ করে ফিরিয়ে এনেছে, সেই বোর্ডেরই একটা অংশের তোপের মুখে পড়তে যাচ্ছেন তিনি? এম নাজমুল হোসেন এমনিতেই স্যোশাল মিডিয়ার বিতর্কিত চরিত্র। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতের দালাল’ বলার জের ধরে খোদ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) একদিনের জন্য খেলা বন্ধ থাকে।
খেলোয়াড়দের বিদ্রোহের পরও তিনি পদ ছাড়েননি। বরং, কিছুদিন সরিয়ে রাখার পর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল তাঁকে স-সম্মানে ফিরিয়ে এনেছেন। এবার অদম্য কাপ টি-টোয়েন্টির ম্যাচ চলাকালে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামেই তাঁকে এক চোট নিলেন ফারুক আহমেদ।

এর সূত্রপাত তাঁর আরেক বিস্ফোরক মন্তব্য থেকে। নাজমুলের আপত্তি আম্পায়ারদের ম্যাচ ফি নিয়ে। তার মতে, দুই বছরে পারিশ্রমক ৭০০ ডলার থেকে ২,০০০ ডলারে যাওয়াটা ‘অস্বাভাবিক’। তিনি একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বললেন, ‘ইনক্রিমেন্টের একটা সীমা থাকা উচিত, পারিপার্শ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে চলতে হয়।’ এমনকি এই টাকা আদৌ আম্পায়ারদের হাতে পৌঁছায় কি না, তা নিয়েও নাজমুল সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
এই বক্তব্যেই ক্ষেপে ওঠেন বিসিবির একাধিক পরিচালক। আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠু সরাসরি জানিয়েছেন।, নাজমুলকে এসব মন্তব্যের জন্য জবাবদিহি করতে হয়েছে। নতুন কাঠামোর আগে সবাই সমানভাবে ৫০ হাজার টাকা বা ৫০০ ডলার পেতেন। এবার কাঠামো বদলানো হয়েছে—এলিট প্যানেলের আম্পায়ারদের জন্য ২,৫০০ ডলার, আইসিসি ইন্টারন্যাশনালদের জন্য ১,০০০ ডলার, আর নন–ইন্টারন্যাশনালদের জন্য ৭০০ ডলার।
এখানেই থামেননি নাজমুল। অনূর্ধ্ব–১৯ ক্রিকেটারদের জন্য কেনা ক্রিকেট গিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুললেন—টাকা ঠিকমতো খেলোয়াড়দের হাতে পৌঁছায় কি না, ৩৫ হাজার টাকার জুতা বা ৬০ হাজার টাকার ব্যাট আদৌ প্রয়োজন কি না, এ মন প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন প্রকাশ্যে। ক্রিকেটের বাইরে থেকে এসে কারও এমন প্রশ্ন করা নিয়েই বিসিবির অন্দরমহলে আগুন জ্বলে উঠেছে। কারণ, নাহিদ রানার মতো একজন খেলোয়াড়কে যদি নিম্নমানের জুতা দেওয়া হয়, তাহলে পিঠের ব্যথা ধরে তার ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে যেতে পারে।

বোর্ডরুমের ভেতরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অন্তত ১০ জন পরিচালক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের কাছে নাজমুলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তোলেন। চিৎকার–চেঁচামেচি হয়, কেউ কেউ পদত্যাগের হুমকিও দেন। প্রশ্ন ওঠে—এত বিতর্কের পরেও নাজমুল কীভাবে আবার ফাইন্যান্স কমিটিতে ফিরলেন? খেলোয়াড়দের বয়কট সামলে নেওয়ার পরও তাকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত এল কোথা থেকে? বিসিবির ভেতরের ম্যাচ যে এখনো শেষ হয়নি, তা বোঝা যাচ্ছে স্পষ্ট। ফারুক আহমেদের রূদ্রমূর্তি সেই ম্যাচেরই একটা খণ্ডচিত্র।










