যুক্তরাজ্যের ইউটিলিটা বোলে পাকিস্তানের মুখোমুখি যখন হবে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল, তখন সমীকরণটা জলের মতো পরিষ্কার—হয় সেমিফাইনালের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখা, না হয় খাদের কিনারায় ছিটকে পড়া। ২০২৬ আইসিসি নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের এই ১৫তম ম্যাচটি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য রূপ নিয়েছে এক চরম স্নায়ুযুদ্ধে।
ডাচদের হারিয়ে আসর শুরু করলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে শোচনীয় হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটারদের সেই ব্যর্থতা আর বড় ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন এটি। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে সাতটায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি জিতলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালের রেসে শক্তভাবে টিকে থাকবে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। কিন্তু কোনো কারণে আবারও পা হড়কালেই স্বপ্নভঙ্গের নীল বেদনায় পুড়তে হবে বাংলাদেশের মেয়েদের; তখন বিদায় এড়াতে তাকিয়ে থাকতে হবে অলৌকিক গাণিতিক সমীকরণের দিকে।
অন্যদিক থেকে ভাবলে, বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য ম্যাচটি আরও রোমাঞ্চকর। কারণ প্রতিপক্ষ পাকিস্তান এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এক দল। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টানা দুই ম্যাচ হেরে তারা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে। বাংলাদেশের কাছে হারলেই প্যাক–আপ করতে হবে ফাতিমা সানার দলকে। ফলে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার অক্সিজেনের খোঁজে তারা যে মরণকামড় দেবে, তা বলাই বাহুল্য।

ইতিহাস অবশ্য কথা বলছে পাকিস্তানের পক্ষে। দুই দলের মধ্যকার ২০টি টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ১৬টিতেই জিতেছে পাকিস্তান, বাংলাদেশের জয় মাত্র ৪টিতে। তবে পরিসংখ্যানের এই ধূসর পাতা ওল্টাতে মরিয়া বাংলাদেশ। অতীত যাই বলুক, আগের ম্যাচের ব্যাটিং বিপর্যয় ভুলে ব্যাটাররা যদি নিজেদের মেলে ধরতে পারেন, আর মারুফা–নাহিদা–রাবেয়াদের চেনা ঘূর্ণি যদি সাউথ্যাম্পটনে জ্বলে ওঠে, তবে বাঘিনীদের পক্ষে যেকোনো সমীকরণ বদলে দেওয়া সম্ভব।
বিশ্বমঞ্চে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে কি সেমিফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে যাবে জ্যোতি–স্বর্ণারা, নাকি সাউথ্যাম্পটনের আকাশে মেঘ জমবে? উত্তর মিলবে মাঠের যুদ্ধেই!











