সাকিবদের সিপিএল যাত্রার অবসান!

এলিমিনেটরের মহারণে সাকিব আল হাসানের ব্যাটিং ঝড়, এক ওভারেই তুলে নিলেন ১৮ রান। তবুও হারতে হলো অ্যান্টিগা অ্যান্ড বার্বুডা ফ্যালকনসে। নিকোলাস পুরানের ব্যাটের সামনে থেমে যেতে হলো সাকিবদের।

এলিমিনেটরের মহারণে সাকিব আল হাসানের ব্যাটিং ঝড়, এক ওভারেই তুলে নিলেন ১৮ রান। তবুও হারতে হলো অ্যান্টিগা অ্যান্ড বার্বুডা ফ্যালকনসে। নিকোলাস পুরানের ব্যাটের সামনে থেমে যেতে হলো সাকিবদের।

অ্যান্টিগার ইনিংসের ১৮তম ওভারে ব্যাট হাতে সুযোগ মিললো সাকিবের,  প্রথম  বলে সুনিল নারাইন ইমাদ ওয়াসিমকে তুলে নেন। দলের রান তখন ১৩১। দ্বিতীয় বল ডট দিলে, নারাইনের স্পেল তখন দাঁড়িয়েছে ৩.২ ওভার শেষে ১৮ রান দিয়ে এক উইকেট। ধারাভাষ্যকক্ষ থেকে ভেসে এলো তাঁর কৃপণ বোলিংয়ের একরাশ প্রশংসা। আর এরপরই সাকিব ঝড়ে রীতিমতো সব হারালেন তিনি।

টানা তিন বলে তিন চার, আর শেষ বলটাকে ছক্কায় পরিণত করলেন, স্কোরবোর্ডে যোগ হলো ১৮ রান। চার বলের ব্যবধানে নারাইনের স্পেল শেষ হলো ৩৬ রানে। সাকিব আল হাসান তো এমনই মুহূর্তেই সমীকরণের হিসাব পাল্টে দিতে পারেন, চাইলেই সব আলো নিজের দিকে টেনে নিতে পারেন।

এদিন শুরুতে টসে জিতে ট্রিনবাগো নাইট রাইডার্স অধিনায়ক নিকোলাস পুরান সিদ্ধান্ত নেন বোলিং করার। অ্যান্টিগার ওপেনার রাকিম কর্নওয়াল অবশ্য ছয় রান করেই সাজঘরের পথে হাঁটা দেন। তবে এরপরই আমির জানগু এবং আন্দ্রেস গাউস মিলে গড়েন ১০৮ রানের জুটি।

আমিরের ৫৫ আর আন্দ্রেস গাউসের ব্যাট থেকে আসে ৬১ রানের ইনিংস। আর এরপরই সাকিবের ৯ বলে ২৬ রানের মারকাটারি ব্যাটিংয়ে ভর করে অ্যান্টিগা সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৬ রানে।

১৬৭ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে কেবল কলিন মনরোকে হারিয়েছে ট্রিনবাগো নাইট রাইডার্স। দলীয় ২৫ রানের মাথায় কর্নওয়েলের কাছে উইকেট তুলে দিয়ে আসেন। আর এরপরই নিকোলাস পুরান আর অ্যালেক্স হেলসের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়ে ওঠে।

সাকিব যখন বল হাতে এলেন ইনিংসের তখন ১১তম। অন্যান্য বোলাররা ব্যর্থ হলেও সাকিবকে ইমাদ ওয়াসিম আজও ঠিকঠাক ব্যবহার করেননি। প্রথম ওভার থেকে দুই রান দিলেন, দ্বিতীয় ওভারে সাত। তবে নিজের করা তৃতীয় ওভারে সাকিব দিলেন ১৭। ততক্ষণে অবশ্য দুই ব্যাটার রুদ্ররূপ ধারণ করেছে ক্রিজে, কার্যত কিছুই আর করার ছিল না তখন।

পুরানের ৫৩ বলে ৯০ আর হেলসের ৪০ বলে ৫৪ রানে ভর করে নয় উইকেট হাতে রেখেই ১৬৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁয়ে ফেলে নাইট রাইডার্স। আর সাকিবদের এবারের সিপিএল যাত্রায় ইতি ঘটে।

সাকিবের এবারের আসরটা ভাল-মন্দের মিশেলে হলো। ১১ ম্যাচে ব্যাট হাতে ১৮০ রানের পাশাপাশি উইকেট শিকার করেছেন ছয়টি। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে নিজের সেরাটা না দিতে পারলেও, এখনও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘সময়টা একদিন আমারও ছিল।’

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link