টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ইংল্যান্ড একমাত্র দল, যাদের ব্যাটিং ইনিংসে ছয়টা ডাক থাকা সত্ত্বেও ৪০০ রান এসেছে স্কোরবোর্ডে। আর তাদের এই ছয়টা ডাকের পেছনের কারিগর সিরাজ এবং আকাশ দীপ। আবার একই ইনিংসে দুই ব্যাটারের ১৫০ পার হওয়া সত্ত্বেও ৪০৭ রানে অলআউট হওয়া বিরল এক রেকর্ড। যার পেছনেও অবদানটা ওই সিরাজ এবং আকাশদীপের।
একটা কথা প্রচলিত—বুমরাহ ছাড়া ভারতের বোলিং অ্যাটাকের অস্তিত্ব নেই। দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগে এমন শঙ্কাও অবশ্য ছিল ভারতীয় ডেরায়। তবে মোহাম্মদ সিরাজ যেন উপড়ে ফেলা স্টাম্পের সবকিছু উড়িয়ে দিলেন এক নিমেষে। ইংলিশ ৬ ব্যাটারের উইকেট পকেটে পুরেছেন তিনি।
শুরুটা অবশ্য করেছিলেন আকাশদীপ। ফর্মে থাকা বেন ডাকেট এবং ওলি পোপকে শূন্য রানে ফিরিয়ে ডাগআউটে থাকা বুমরাহকে বোধহয় একটা আশ্বাসবাণী দিয়েছিলেন।

এরপরের গল্পের নায়ক মোহাম্মদ সিরাজ। লাইন-লেন্থ মেনে অনেকটা মুখস্থ বিদ্যার মতো নিজের দক্ষতা জাহির করেছেন। পরপর দুই বলে জো রুট এবং বেন স্টোকসকে ফিরিয়ে ইংলিশ ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ডটাই ভেঙে ফেলেন।
তবে এখানেই শেষ হয়নি আকাশ এবং সিরাজের বোলিং সিম্ফনি। ব্রুক এবং স্মিথের ষষ্ঠ উইকেট জুটি যখন ভারতের গলার কাঁটা, ঠিক তখনই দুর্দান্ত এক ইনসুইংগারে আকাশ ফেরান ১৫৮ করা হ্যারি ব্রুককে।আর শেষদিকে সিরাজের বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ইংল্যান্ডের টেলএন্ডাররা। সিরাজের ছয় এবং আকাশের চার—দুজনেই ঘায়েল করেছেন ইংল্যান্ড শিবিরকে।
বুমরাহর জায়গায় কেন আকাশদীপ এলো—এটা একটা প্রশ্ন ছিল। মোহাম্মদ সিরাজ কেন ব্যর্থ হচ্ছেন? বুমরাহকে যোগ্য সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হওয়া সিরাজকে দিয়ে যে আর হবে না?

তবে উত্তরটা মাঠের খেলায় দিলেন, উত্তরটা দিলেন বল হাতে। আকাশদীপ বোঝালেন—সুযোগ পেলে তিনিও কম যান না। আর সিরাজ যেন একটা নীরব বিদ্রোহের সুরে বললেন—‘দায়িত্বটা আমার কাঁধে থাকলে আমিও পারি।’











