ফ্যান ফেভারিট বাবরের ক্রেজ আকাশচুম্বী

টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এখন বাবর আজম। ৪৩০২ রান নিয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন রোহিত শর্মাকে। এমন একজন ব্যাটারকে নিয়েই তো হওয়া উচিত উচ্ছ্বাস, উন্মাদনা, পাগলামি। নয়ত আর ক্রিকেটের মানে কি?

অর্জনের দিক থেকে হয়ত বাবর আজম নন মহেন্দ্র সিং ধোনির সমকক্ষ। তবে দর্শকদের হৃদয়ের ঠিকই রয়েছে বাদশাহ বাবর নামক সাম্রাজ্য। যে কারণে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়াম উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে শাহিবজাদা ফারহানের আউটে। কারণ এরপর যে বাবর নামবেন ব্যাট হাতে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ধোনি অবসর নেওয়ার পর, তার প্রতি দর্শকদের অগাধ ভালবাসা পরিলক্ষিত হয়েছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের মঞ্চে। তার পারফরমেন্স তখন আর মুখ্য নয়, বরং তার মাঠে নামাটাই হয়ে ওঠে আনন্দের উপলক্ষ। বাবর অবশ্য এখনও অবসর নেননি। তবে ইতোমধ্যেই বাবর পৌঁছে গেছেন প্রায় সমান এক উচ্চতায়।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে বাবরকে ছেটে ফেলা নিয়ে গোটা পাকিস্তান জুড়েই হয়েছে নানামুখী সমালোচনা। দর্শক-সমর্থকদের মধ্যে ছিল রীতিমত চাপা ক্ষোভ। এশিয়া কাপে বাবরকে দলে না নেওয়া নিয়েও হয়েছে তীব্র নিন্দা। তিরস্কারের তীর্যক বাণ বিদ্ধ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেটকে, স্রেফ বাবর নেই বলে।

পাকিস্তানের ঘরের মাঠেও দর্শক খরা দেখা দিয়েছিল বাবরের অবর্তমানে। সেই দৃশ্য যেন পালটে গেছে স্রেফ বাবরের আগমনে। বাবর খেলবেন- এই এক বাক্যেই যেন জনস্রোত ধাবিত হয়েছে স্টেডিয়ামের দিকে। বাবরের ওই দৃষ্টিনন্দন কাভার ড্রাইভে গলা ফাটাতে মুখিয়ে ছিলেন স্টেডিয়ামে আসা প্রত্যেকে।

দর্শকদের একেবারেই নিরাশ করেননি বাবর। সিরিজ নির্ধারনী তৃতীয় ম্যাচে, বাবরের হাফসেঞ্চুরিই বরং দলকে জিতিয়েছে ম্যাচ। সেই সাথে সিরিজও। তার সেই স্থিতিশীল ব্যাটিং শৈলী, সুদৃঢ় মানসিকতা পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে ফিরিয়েছে রানের ধারা, দিয়েছে স্ট্যাবিলিটি।

বাবর বলতে অজ্ঞান সমর্থকরা অন্তত বোঝাতে পারলেন, অযথাই তারা বাবর বন্দনায় মেতে ওঠেন না। বাবরের প্রতি তাদের অগাধ বিশ্বাস এতটাও ঠুনকো নয়। যে ব্যাটার বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাকে পেছনে ফেলেছেন- তাকে নিয়ে একটু বাড়তি পাগলামি চাইলেই করা যায়। তাতে দোষের কিছু নেই।

টি-টোয়েন্টিতে পঞ্চাশোর্ধ ইনিংসের দিক থেকে বিরাটকে ছাপিয়ে গেছেন বাবর। বিরাটের পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস ছিল ৩৯টি। বাবরের সংখ্যাটা এখন ৪০। এছাড়া টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এখন বাবর আজম। ৪৩০২ রান নিয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন রোহিত শর্মাকে। এমন একজন ব্যাটারকে নিয়েই তো হওয়া উচিত উচ্ছ্বাস, উন্মাদনা, পাগলামি। নয়ত আর ক্রিকেটের মানে কি?

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link