বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গাজুড়ে ছিলেন শাহিবজাদা ফারহান। তবে বড় মঞ্চে এসে সেই ফারহানই হয়েছেন এই দলটার সবচেয়ে বড় ভরসার নাম। পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডারটা যেন একার কাঁধেই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেটাই করে দেখালেন আরও একবার।
বিশ্বকাপে পা রাখার আগে বড় গলায় বলেছিলেন, অন্তত দু-তিনটা ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হতে চান। ফর্মহীনতার চূড়ায় থাকা একজনের মুখে তৎক্ষণাৎ এই কথাটা খুব একটা শোভনীয় লাগেনি। তবে বিশ্বাসে মেলে বস্তু, তর্কে বহুদূর। ফারহান ওই বিশ্বাসকে পুঁজি করেই কথাটাকে কাজে রূপান্তর করেছেন।
পাল্লেকেলেতে বাঁচা-মরার সমীকরণ কাঁধে নিয়ে নেমেছে দুই দল। আগে ব্যাট করতে নামার সিদ্ধান্ত আসে পাকিস্তানের থেকে। তবে শুরুটা আশানুরূপ হয়নি, চোখের সামনে ফারহান দেখেছেন সতীর্থদের মাথা নুইয়ে বিদায় বলার দৃশ্য। যুদ্ধ নামার আগেই যে রণতরীর এক অংশ ভেঙে পড়েছে।

সেখান থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে নেন তিনি। শুরু করেন ইনিংস মেরামতের কাজ। মাঝের সময়টাতে বাবর আজম সঙ্গ দিলেও সেটা স্বল্প সময়ের জন্য। এরপর নিঃসঙ্গ নাবিকের মতো তরী তীরে ভেড়ানোর চেষ্টা চলে ফারহানের ব্যাটে। ফিফটিও আসে, এরপর গতি বাড়ানোর চেষ্টাও করেন। তবে ৪৫ বলে ৬৩ রানেই থামতে হয় তাঁকে।
জেমি ওভারটনের শিকার হয়ে যখন সাজঘরে ফিরছেন, চওড়া ব্যাটের সঙ্গে বুকটাও চওড়া হয়েছে। কাজের কাজটা যে করে ফেলেছেন তখন। শূন্য থেকে দলের রান ১২২-এ এনে তাঁর যাত্রা থেমেছে। সেই সাথে দলও পেয়েছে লড়াই করার মতো ১৬৪ রানের পুঁজি।
এখনও পর্যন্ত আসরে সবচেয়ে বেশি রান তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে। পাকিস্তানকে একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে দেওয়া কথাটাও রেখেছেন। আবারও প্রমাণ হয়েছে, বিশ্বাসে মেলে বস্তু।

Share via:











