৯০ বলে ৫১ রান, তাওহীদ হৃদয়ের এই ইনিংস প্রশংসার দাবিদার। ব্যাটারদের জন্য কঠিন কন্ডিশন, অতিরিক্ত টার্ন–বাউন্স—সব মিলিয়ে যেখানে টিকে থাকাটাই মুখ্য বিষয়, সেখানে হৃদয়ের এই ইনিংসকে কোনোভাবেই মন্দ বলার উপায় নেই। তবে তাঁর গুরুতর সমস্যাটা এই পাঁচ অঙ্কের ঘরে এসে বারবার উইকেট বিলিয়ে আসা, ইনিংস বড় করতে না পারার ব্যর্থতা।
শেষ ছয় ওয়ানডে ম্যাচে হৃদয়ের ব্যাট থেকে এসেছে চারটি পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস। তিনি রানের মধ্যে আছেন, ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতার ছাপ রেখে চলছেন। তবে দলকে মাঝসমুদ্রে ফেলে চলে যাচ্ছেন—যেন ফিফটি পার করলেই তাঁর কাজ শেষ।
আজকের ইনিংসটাই ধরা যাক—৯০ বলে করেছেন ৫১ রান। ৫৬.৬৬ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করার জন্য হয়তো অনেকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারে তাঁকে। তবে রানের মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে রান বের করা, দলের বিপর্যয় সামলানো—সব মিলিয়ে এই ইনিংসের মাহাত্ম্যকে অস্বীকার করার উপায় নেই।

তবে হৃদয় নিজের ইনিংসের প্রতি আরেকটু যত্নবান হতে পারতেন। আরও কিছুক্ষণ ক্রিজে থেকে কিছু রান যোগ করতে পারতেন বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে। এখানেই মূলত তাঁর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।
ছয় ম্যাচের চারটাতে ফিফটির দেখা পেয়েছেন ঠিকই, তবে রানের হিসাবটা যথাক্রমে ৫১, ৫১, ৫৬, ৫১। এই পঞ্চাশের ঘরেই বারবার খেই হারিয়েছেন তিনি। তাই নিজের ব্যাটে রান পেলেও দলের জন্য তা খুব একটা কাজে আসেনি।
ওয়ানডে ফরম্যাটে প্রথম দিকের চ্যালেঞ্জ পার করতে পারলেই একজন ব্যাটারের তাড়না থাকে বড় রান করার, ফিফটি পেলে সেঞ্চুরিতে কনভার্ট করার। আর হৃদয়ের ব্যর্থতা এখানেই—ভালো শুরু, উইকেটের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলার পরেও নিজের কাজটা মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া মোটেও স্বস্তিদায়ক নয় তাঁর জন্যও।

হৃদয়ের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ একটাই—ইনিংসকে পূর্ণতা দেওয়ার। অর্ধেক কাজ করে ফেলে আসা নয়, বরং পুরোটা শেষ করার।











