ভারতীয় ক্রিকেটের ‘বিদেশি’রা

ঘরোয়া ক্রিকেটের মান যত উন্নত হবে তত ভালো ক্রিকেটাররা উঠে আসবে জাতীয় দলের জন্য। পাইপলাইনও তত বেশি শক্তিশালী হবে। এই সময়ে যেটা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেটে।

একটা দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট তাঁদের ক্রিকেটের মূল স্তম্ভ।

ঘরোয়া ক্রিকেটের মান যত উন্নত হবে তত ভালো ক্রিকেটাররা উঠে আসবে জাতীয় দলের জন্য। পাইপলাইনও তত বেশি শক্তিশালী হবে। এই সময়ে যেটা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেটে।

ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট তাঁদের প্রচুর আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার তৈরি করে দিচ্ছে। ওদিকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ খেলতে এখন বিশ্বের নানা ক্রিকেটারই ভারতে যায়। তবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) বাদে ভারতের অন্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টও খেলতে গিয়েছিল কয়েকজন বিদেশি ক্রিকেটার। তাঁদের নিয়েই এই আয়োজন।

  • কবির আলী (ইংল্যান্ড)

কবির আলী ইংল্যান্ডের সাবেক পেস বোলার। ইংলিশ এই পেসার ২০০৬-০৭ মৌসুমে ভারতে এসেছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে। সেই বছর রাজস্থানের হয়ে রঞ্জি ট্রফি খেলেছিলেন এই পেসার। রাজস্থানের হয়ে মোট ২টি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। সেখানে তিনি চারটি উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও করেছিলেন ৭২ রান।

  • বিক্রম সোলানকি (ইংল্যান্ড)

ইংল্যান্ডের আরেকজন ক্রিকেটার যিনি ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে এসেছিলেন। ইংল্যান্ডের হয়ে ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও খেলেছিলেন এই ব্যাটসম্যান। ২০০৬-০৭ মৌসুমে তিনিও খেলেছিলেন রাজস্থানের হয়ে। পাঁচ ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল ২৫৯ রান।

  • নয়ন দোশি (ইংল্যান্ড)

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার দীলিপ দোশির ছেলে নয়ন দোশি। যদিও নয়ন একজন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার। তবে ২০০১-২০০৫ সালে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছিলেন তিনি। ২০২১ সালের আইপিএল নিলামে নাম উঠেছিল এই ক্রিকেটারের।

  • এনামুল হক জুনিয়র (বাংলাদেশ)

২০০৮ সালে বিসিসিআই স্টেট দলগুলোকে একজন করে বিদেশি ক্রিকেটার খেলানোর অনুমতি দেয়। তবে বিদেশি সেই ক্রিকেটারকে অবশ্যই ১০ টেস্ট ও ২০ টি সাদা বলের ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। মহারাষ্ট্র তাই বাংলাদেশের বাঁ-হাতি স্পিনার এনামুল হক জুনিয়রকে নিয়ে গিয়েছিল তাঁদের হয়ে খেলার জন্য। তিনিই একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার যিনি ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে সুযোগ পান।

  • মরিস রবিনসন (আয়ারল্যান্ড)

১৯২১ সালে আয়ারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন মরিস রবিনসন। সব মিলিয়ে ৮৩ টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। এরমধ্যে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটও খেলেছিলেন রবিনসন। হায়দ্রাবাদের হয়ে খেলতে এসেছিলেন তিনি। খেলেন মাদ্রাজের হয়ে। তবে, তিনি বেশি পরিচিত কাউন্টি দল ওয়ারউইকশায়ারের ক্রিকেটার হিসেবে।

  • চেস্টার ওয়াটসন (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই পেস বোলার ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছিলেন দিল্লীর হয়ে। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে মোট ৭ টি টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। সেখানে তাঁর ঝুলিতে আছে ১৯ উইকেট। তবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি মোটেও পরিচিত মুখ নন।

  • ডেনিস কম্পটন (ইংল্যান্ড)

ডেনিস কম্পটন ইংল্যান্ডের হয়ে মোট ৭৮ টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান বাঁ-হাতে স্পিনও করতেন। টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের হয়ে তাঁর ঝুলিতে আছে ৫ হাজারের বেশি রান। ক্রিকেটের ইতিহাসের বিরাট এক কিংবদন্তি তিনি। তিনিও ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে নাম লিখিয়েছিলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কম্পটনের পোস্টিং ছিল ভারতে। তখন তিনি সেনাবাহিনীর কাছ থেকে অনুমতি সাপেক্ষে হোলকারের হয়ে রঞ্জি দলের হয়ে মাঠে নেমে পড়েন। সেই সময় অস্ট্রেলিয়া সার্ভিসের বিপক্ষে একটা প্রীতি ম্যাচও খেলেন, যেখানে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন স্বয়ং কিথ মিলার।

  • তন্ময় মিশ্র (কেনিয়া)

তিনি মূলত ভারতেরই মানুষ। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন কেনিয়ার হয়ে। ২০০৬ সালে কেনিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। কেনিয়ার হয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ তিনি খেলেন ২০১৩ সালে। আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে একটা ম্যাচ খেলেন। তন্ময় অবশ্য এখন ভারতেই থাকেন। ত্রিপুরা দলের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে খেলেন।

লেখক পরিচিতি

আমার ডায়েরির প্রতিটা পৃষ্ঠাই আমার বাইশ গজ।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link