দারিদ্র্যের কারণে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ভোরে উঠে কাজ করতেন কারখানায়, সেই ডেনিজ উনদাভ এখন জার্মানির নায়ক। ২০১৪ সালের সেই রূপকথার পর আবার নিজের দেশকে নিয়ে গেছেন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে। এক বুক স্বপ্ন নিয়ে আজ উনদাভের হাত ধরে নতুন আশার আলো দেখছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি।
অথচ এই যাত্রাপথটা ছিল ভীষণ বন্ধুর। কুর্দি-ইয়াজিদি অভিবাসী পরিবারে জন্ম নেওয়া উনদাভকে ২০১২ সালে ভেরডার ব্রেমেন নিজেদের একাডেমি থেকে বাদ দেয় কেবল কম উচ্চতার অজুহাতে। কিন্তু বুকভরা কষ্ট নিয়েও আশা হারাননি তিনি। ফুটবল নিয়ে দেখা স্বপ্ন বাঁচাতে জার্মানির চতুর্থ বিভাগের ক্লাবে খেলার পাশাপাশি বেছে নেন কারখানার কঠোর পরিশ্রম। যেখানে ভোরে উঠে আট ঘণ্টা কাজ করতে হতো মাথার ঘাম পায়ে ফেলে।
জীবনের সাথে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ২০২০ সালে বেলজিয়ামের ইউনিয়ন সেন্ট-জিলোয়ায় যোগ দেওয়াই ছিল উনদাভের জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। প্রথম মৌসুমেই ১৮ গোল করে দলকে শীর্ষ লিগে তোলেন। পরের বছর ২৬ গোল করে লিগের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। সময়ের সাথে সাথে ব্রাইটন ও স্টুটগার্ট ঘুরে নিজেকে বুন্দেসলিগার অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে বুন্দেসলিগায় ১৯ গোল করে জার্মানদের মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোরার হন উনদাভ। তবে বিশ্বকাপের ঠিক আগে কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের সাথে সামান্য ভুল বোঝাবুঝির কারণে দলে জায়গা পাওয়া নিয়েই তৈরি হয়েছিল সংশয়। কিন্তু সব বিতর্ককে উড়িয়ে দিয়ে উনদাভ ঠিকই জায়গা করে নেন বিশ্বকাপের মঞ্চে।
বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে নেমে একের পর এক ম্যাচে জার্মানি দলের আলো নিজের দিকে কেড়ে নিয়েছেন উনদাভ। কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করার ম্যাচে দুই অ্যাসিস্টের সাথে ছিল একটু গোল। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে বদলি নেমে বাঁ পায়ের ভলিতে দারুণ এক গোল করেন। যোগ করা সময়ে আরেক গোল করে স্কোরলাইন নিয়ে যান ২-১ গোলে। আর এতেই জার্মানি ২০১৪ বিশ্বকাপের পর আবারও জায়গা করে নেয় নকআউট পর্বে।
আগামী ১৯ জুলাই উনদাভের ২৯তম জন্মদিন, আর কাকতালীয়ভাবে সেদিনই অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ ফাইনাল। ১৭ বছর বয়সে কারখানায় ঘাম ঝরানো যে লড়াকু তরুণকে একদা ফুটবল বিশ্ব অবহেলা করেছিল, সেই উনদাভ কি এবার নিজের জন্মদিনে বিশ্বজয়ের সোনালী ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে পারেন, সেই দিকেই তাকিয়ে থাকবে পুরো বিশ্ব।











