অস্বীকৃতি থেকে ইতিহাস, ব্যাগি গ্রিনে উসমান খাজার শেষ অধ্যায়

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, এই মাঠেই একদিন গ্যালারিতে বসে এক আকাশ পরিমাণ স্বপ্ন মাথায় নিয়ে টেস্ট ক্রিকেট দেখেছিলেন এক কিশোর। সেই কিশোর পরবর্তীতে সেই সাদা কালো স্বপ্নে রঙ দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এই সিডনিটাই মাতিয়েছেন বহুবার। সেই মাঠেই আবারও অস্ট্রেলিয়ার জার্সি গায়ে দাঁড়াবেন তিনি,বতবে এবার যে বেলা ফুরিয়ে এসেছে।

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, এই মাঠেই একদিন গ্যালারিতে বসে এক আকাশ পরিমাণ স্বপ্ন মাথায় নিয়ে টেস্ট ক্রিকেট দেখেছিলেন এক কিশোর। সেই কিশোর পরবর্তীতে সেই সাদা কালো স্বপ্নে রঙ দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এই সিডনিটাই মাতিয়েছেন বহুবার।

সেই মাঠেই আবারও অস্ট্রেলিয়ার জার্সি গায়ে দাঁড়াবেন তিনি, তবে এবার যে বেলা ফুরিয়ে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাগি গ্রিন জার্সিতে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন উসমান খাজা। চলতি অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম ও শেষ টেস্টই হবে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়।

১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানতে গিয়ে খাজার কণ্ঠে ধরা পড়ে শুধু বিদায়ের ভার নয়, বরং দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্পও। তিনি বলেন, ‘আমি পাকিস্তান থেকে আসা এক গর্বিত মুসলমান। যাকে বলা হয়েছিল, সে কখনো অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে পারবে না। অথচ আজ আমাকে দেখো।’

এই একটি কথাতেই যেন ধরা পড়ে তাঁর জীবনের পুরো সংগ্রাম। প্রত্যাখ্যান আর ফিরে আসার গল্প। বাইরের দেশে জন্ম নেওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার হয়ে না খেলতে পারার কথা শোনা থেকে অস্ট্রেলিয়ার জার্সি গায়ে বিশ্ব মাতানোর গল্প।

ইসলামাবাদে জন্ম নেওয়া খাজার বেড়ে ওঠা সিডনিতেই। এখানেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক, এখানেই টেস্ট ক্যাপ পরা। আর এখন, ৩৯ বছর বয়সে এসে, এখানেই বিদায়। অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান টেস্ট দলের সবচেয়ে বয়সী সদস্য হিসেবে তিনি অবসর নিচ্ছেন ৮৮টি টেস্ট খেলে।

২০১০-১১ অ্যাশেজে সম্ভাবনাময় অভিষেকের পরও খাজার পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। দলে ঢোকা, আবার বাদ পড়া। এক পর্যায়ে তাঁর টেস্ট গড় নেমে আসে ২৫-এর কাছাকাছি। তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, এই অধ্যায় বুঝি শেষ।

কিন্তু খাজা হার মানেননি। বারংবার ফিরেছেন। ২০২১-২২ অ্যাশেজে, আবার এই সিডনিতেই জোড়া সেঞ্চুরি করে নতুন করে নিজের ক্যারিয়ার লিখতে শুরু করেন তিনি। সেই মুহূর্ত থেকে এখন পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর চেয়ে বেশি রান আর কোনো অস্ট্রেলীয় ব্যাটারের নেই।

দুবাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে নয় ঘণ্টার ১৪১ রানের ইনিংস, সিডনিতে টানা দুই সেঞ্চুরি, কিংবা ২০২৩ সালে এজবাস্টনে তাঁর দীর্ঘ প্রতিরোধী ব্যাটিং। সবই ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হয়ে আছে ধৈর্য আর মানসিক দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে।

মাঠের বাইরেও খাজার ভূমিকা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে তিনি বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এবং অভিবাসী পটভূমি থেকে আসা খেলোয়াড়দের সুযোগ তৈরির প্রশ্নে বারবার সরব হয়েছেন।

বিদায়ের প্রাক্কালে খাজার চাওয়াটা খুব সাদাসিধ, ‘আমি চাই, মানুষ আমাকে একজন বিনয়ী ক্রিকেটার হিসেবেই মনে রাখুক, যে মাঠে নেমে সবাইকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছে।’

যে মঞ্চ একসময় তাঁকে জানিয়েছিল – তুমি এখানের নও, সেই মঞ্চেই এবার স্বেচ্ছায় শেষ অভিবাদন জানাবেন উসমান খাজা।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link