যেভাবে রান প্রসবা হবে মিরপুরের উইকেট

মিরপুরের উইকেট নয়, এ যেন মাটির ঘরের মেঝে। পানির ছিটায় লেপা হচ্ছে উইকেট। কি অদ্ভুত দৃশ্য!

মিরপুরের উইকেট নয়, এ যেন মাটির ঘরের মেঝে। পানির ছিটায় লেপা হচ্ছে উইকেট। কি অদ্ভুত দৃশ্য! মিরপুর শেরে বাংলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট পেয়ে গেছে ধানক্ষেতের খেতাব। তবে মাটির বাড়ির মেঝে খেতাবও হয়ত জুটে যাবে শীঘ্রই। টনি হেমিং ফিরিয়ে এনেছেন বাংলার সেই পুরনো দিনগুলো।

তবে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই, দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেটে চলছে না এমন মাটি লেপার কাজ। মূলত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল যেই উইকেটে, সেই উইকেটের পরিচর্যা চলমান। ম্যাচের দিনের একেবারে শুরুতেই তো উইকেটের উপরিভাগের আস্তরণ সরে যেতে দেখা গেছে।

খেলোয়াড়দের বুটের আঘাতে মাটি আলগা হয়ে গেছে। এর উপর আবার চলমান আছে ‘হিটওয়েভ’। প্রচণ্ড তাপে উইকেটে ফেটে হয়ে যেতে পারে চৌচির। সে কারণেই মূলত ক্ষত হওয়া যায়গা গুলোতে পরম মমতা নিয়ে লেপা হচ্ছে মাটি। এরপর টনি হেমিং নিজ হাতে পানি ছিটিয়েছেন- উইকেট যাতে খুব বেশি শুষ্ক হয়ে না যায়। ধারণা করা যাচ্ছে, সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটিও আয়োজিত হতে পারে সেই উইকেটে।

তবে দ্বিতীয় ম্যাচটি আয়োজিত হবে ইস্টার্ণ গ্যালারি থেকে গননা শুরু করলে, পঞ্চম উইকেটে। সেই উইকেট অবশ্য ঢেকেই রেখেছিলেন টনি হেমিং। আসে পাশে পানির ছেটালেও দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেটকে নতুন করে দেননি আদ্রর্তার ছোয়া। তাতে করে উইকেট ড্যাম্প হয়ে আরও বেশি বোলিং সহায়ক হয়ে যেতে পারে।

তবে মিরপুরের এই উইকেট নিয়ে আলোচনা যেন এক অন্তহীন সংলাপের অংশ। চাইলেই মিরপুরের উইকেট বদলে ফেলা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে ড্রপ-ইন পিচ হতে পারে সমাধান। কিন্তু সেটাও সময় সাপেক্ষ এবং প্রচুর খরচের বিষয়। তাছাড়া পুরো উইকেট নতুন করে তৈরি করতে হলে, মিরপুরকে চলে যেতে হবে নির্বাসনে। সেটাও তো প্রায় অসম্ভব।

তাইতো কালো উইকেটের এমন তিরস্কার মাথায় নিয়ে শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে চালিয়ে যেতে হবে সংগ্রাম। আর মিরপুর শুনেই নাক সিটকানোও হয়ে রইবে এক নিত্যদিনের ঘটনা। যদিও কালো উইকেট বলেই যে উইকেট খারাপ, সে ধারণা বদলানো প্রয়োজন।

মিরপুরের উইকেট বরাবরই কালোই ছিল। ২০০৬ সালে পার্থের ওয়াকার আদলে মিরপুরের কালো উইকেট বানিয়েছিলেন রিচার্ড উইন্টার। অজি কন্ডিশনের পেস আর বাউন্সের প্রত্যাশা ছিল। খানিক সংস্কার করে গেল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সেই প্রত্যাশা ফিরিয়েও আনা হয়েছিল।

বিসিবি চাইলে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকেই সমাধান খুঁজে নিতে পারে। প্রথম কাজ হওয়া উচিত— খেলার চাপ কমিয়ে উইকেটকে যথেষ্ট বিশ্রাম দেওয়া। আন্তর্জাতিক ম্যাচকে অগ্রাধিকার দিয়ে মিরপুরে ঘরোয়া ও অন্যান্য আয়োজন সীমিত করতে হবে।

উইকেটে ঘাস জন্মাতে দিতে হবে স্বাভাবিকভাবে, আর তার পরিমাণ নির্ধারণ করবে কিউরেটরের রেসিপি— কারও ব্যক্তিগত অনুরোধে নয়। সঠিকভাবে পানি দেওয়া ও রোলিংয়ের নিয়ম মানা হলে কালো মাটি কোনো বাধা নয়। আগেও এই পদ্ধতিতেই মিরপুরের উইকেট রান প্রসব করেছে, ভবিষ্যতেও করতে পারে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link