২০২৫ সালে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দুই এশীয় তারকা, ভারতের শুভমান গিল এবং পাকিস্তানের বাবর আজম, দুজনেরই সময়টা ভালো কাটেনি। ব্যাট হাতে ব্যর্থতার দায়ে বেশির ভাগ সময় জুড়েই সমালোচনার মুখে ছিলেন তারা। এক্ষেত্রে প্রশ্ন আসতে পারে, ব্যর্থতার দিক থেকে কে এগিয়ে? কার বছরটা ছিল সবচেয়ে হতাশাজনক?
শুরুটা করা যাক শুভমান গিলকে দিয়ে। টেস্ট ও ওয়ানডেতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা গিলের টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। ১৩ ম্যাচে করেছেন মাত্র ২৬৩ রান, গড় ২৬.৩০। সবচেয়ে হতাশার বিষয়, একটিও ফিফটি নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে গোল্ডেন ডাক নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ওপেনার হিসেবে শুরু ভালো করলেও তা বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি। তবে তার একমাত্র স্বস্তির জায়গা স্ট্রাইক রেট। বছরের হিসেবে গিলের স্ট্রাইক রেট দাঁড়িয়েছে ১৪৩.৭২, যা আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে বেশ চলনসই।

অন্যদিকে পাকিস্তানের বাবর আজমের বছরটাও ছিল অস্থিরতায় ভরা। এশিয়া কাপের আগে বাদ পড়েছিলেন টি-টোয়েন্টি দল থেকে। পরে ফের ডাক পেলেও ব্যাট থেকে আসেনি প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা। ৮ ম্যাচে ২০৬ রান, গড় ৩৪.৩৩, যা গিলের চেয়ে বেশি। তবে বড় প্রশ্নের জায়গা তার স্ট্রাইক রেট-মাত্র ১১৪.৪৪। বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এত কম স্ট্রাইক রেট অনেকটা অপরাধের সমতুল্য।
তবে বড় ইনিংসের দিক দিয়ে বাবর এগিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারক ম্যাচে ৪৭ বলে ৬৮ রান এবং ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫২ বলে ৭৪ রানের ইনিংস দুটি পাকিস্তানকে ম্যাচ জেতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিপরীতে গিলের এমন বড় কোনো ইনিংস নেই। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৯ বলে ৪৬ রানের ইনিংসটিই ছিল তার একমাত্র ম্যাচ উইনিং পারফরম্যান্স।

এখানে দাঁড়িয়ে তুলনার জায়গাটা খুব স্পষ্ট। বাবর ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছেন, কিন্তু তার স্ট্রাইক রেট টি-টোয়েন্টির চাহিদা অনুযায়ী অনেকটাই পিছিয়ে। গিল বড় ইনিংস খেলতে পারেননি, শুরুতেই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে দলকে বিপাকে ফেলেছেন। সব মিলিয়ে ২০২৫ সালের টি-টোয়েন্টি পরিসংখ্যান বলছে, দুজনেরই সময়টা একদমই ভালো যায়নি।











