আর্জেন্টিনার চিরকালীন আক্ষেপ তিনি। কিংবা আর্জেন্টাইন সমর্থকদের চিরকালীন চোখের বালি। আর্জেন্টিনায় লিওনেল মেসির সাথে তাঁর জুটি যতটা ব্যর্থ ছিল, ততটাই তিনি সফল ছিলেন ক্লাব ফুটবলে, সেটা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সাথে রিয়াল মাদ্রিদে জুটি বেঁধে হোক, কিংবা হোক ন্যাপোলির ওয়ান ম্যান আর্মি হয়ে।
ক্লাব ফুটবলে গঞ্জালো হিগুয়েন ছিলেন তার প্রজন্মের সেরা স্ট্রাইকারদের তালিকায় নিশ্চয়ই। কিন্তু, জাতীয় দলে, বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্টে, পারফরমেন্স নিয়ে প্রশ্ন থাকাটাই স্বাভাবিক। ২০১০ বিশ্বকাপে হিগুয়েন করেছেন ৪ গোল, টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় পর্বে মেক্সিকোর বিপক্ষে তার গোলটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
২০১১ কোপায় গোল করেছেন একটি, সেটা কোয়ার্টার ফাইনালের উরুগুয়ের বিপক্ষে। ২০১৪ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন ৯ গোল নিয়ে, ১০ গোল করে মেসি ছিলেন শীর্ষে। তবে ২০১৪ বিশ্বকাপে মাত্র এক গোল করেন, সেটা বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে, ১-০ জয় নিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে পৌঁছায় আর্জেন্টিনা।

কোপা আমেরিকা ২০১৫-এ গোল দু’টি, টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ। নক আউটে করেছেন একটি গোল। কোপা আমেরিকা ২০১৬-তে গোল চারটি, সবগুলোই নক আউট রাউন্ডে, দলের হয়ে সর্বোচচ।
বড় টুর্নামেন্টে তার মোট গোল ১২ টি, নক আউটে গোল আটটি – যা আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বাধিক। তবুও, আর্জেন্টিনার সমর্থকরা কেন হিগুয়েনকে সহ্য করতে পারেন না?
কারণ, তিনটি ফাইনালে হিগুয়েনের কিছু শিশুসুলভ ভুল ছিল। একজন স্ট্রাইকার মিস করতেই পারে, কিন্তু বড় ম্যাচে এই ধরনের হাস্যকর মিসের পুনরাবৃত্তি সমর্থকের জন্য কষ্টদায়ক। চিলির বিপক্ষে ২০১৫ কোপা ফাইনালের টাইব্রেকার পেনাল্টি মিস সেই প্রমাণ। জার্মানির, বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করেছিলেন, কিন্তু অফসাইডের কারণে বাতিল। সেই ফাইনালেও শিশুতোষ ভুল ছিল হিগুয়েনের।

সমস্যা কি? অবশ্যই মানসিকতার সংকট। অতীতের ব্যর্থতাগুলো যেন তাঁর ঘাড়ে ভর করে বসেছিল। বড় ম্যাচে হিগুয়েনের খেলায় সেই চাপ চোখে পড়ে। ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নয় ম্যাচে মাত্র এক গোল করার পরও তাকে মূল দলে রাখা হয়েছিল। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে গোল করতে পারেননি, আর শেষ ষোলোর ম্যাচে মাঠে নামেননি।
২০২২ বিশ্বকাপে হিগুয়েনকে ছাড়া বিশ্বকাপে যায় আর্জেন্টিনা। ফিরে আসে ট্রফি জিতে। নিন্দুকেরা বলেন, হিগুয়েন ছিলেন না বলেই জিততে পেরেছিল আর্জেন্টিনা।
হিগুয়েন ছিলেন ক্লাব ফুটবলের উজ্জ্বল নক্ষত্র। কিন্তু আর্জেন্টিনার বড় ম্যাচে মানসিক চাপ আর অতীতের ব্যর্থতার ছায়ায় তার জাদু বের হয়ে আসত না। আর্জেন্টিনা ফুটবল তাই তাঁর নামটা ভুলে যেতে পারলেই বাঁচে।











