হামজা চৌধুরী, বাংলার জিদান, বাংলাদেশের ক্রিশ্চিয়ানো

একই ম্যাচে গোটা ফুটবলের প্রামাণ্য চিত্র এঁকে দিলেন হামজা চৌধুরী। এও সম্ভব! বাংলাদেশদের জার্সিতে এমন বিশ্বমানের নানন্দিক গোল করবেন কেউ একজন- এমন দৃশ্য স্বপ্নেও হয়ত ভাবেনি এই তল্লাটের কেউ।

গুলিস্তানের সবুজ গালিচায় এ যেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। হামজা চৌধুরীর বাইসাইকেল গোল তো গ্যারেথ বেলের ওই বাইসাইকেল থেকেও দৃষ্টিনন্দন। চোখ ধাঁধানো, মন জুড়ানো। আর ওই পানেনকা? বুফনকে বোকা বানানো জিনেদিন জিদানের আত্মা যেন ভর করেছিল বাংলাদেশের হামজা চৌধুরীর উপর।

একই ম্যাচে গোটা ফুটবলের প্রামাণ্য চিত্র এঁকে দিলেন হামজা চৌধুরী। এও সম্ভব! বাংলাদেশদের জার্সিতে এমন বিশ্বমানের নানন্দিক গোল করবেন কেউ একজন- এমন দৃশ্য স্বপ্নেও হয়ত ভাবেনি এই তল্লাটের কেউ। হামজা অধরা স্বপ্নকে বাস্তবের রুঢ় দুনিয়াতে নামিয়ে এনেছেন। বাংলাদেশের পুরো ধূসর ভূবনে তিনি দুই গোলেই ঢেলে দিয়েছেন বর্ণিল আনন্দের হাজার রঙ।

১-০ গোলে পিছিয়ে পরে সাজঘরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। হামজার চোখে-মুখে তখনও বিরক্তির স্পষ্ট ছাপ। বিশ্বমানের একজন ফুটবলার দলের বেহাল দশায় মুষড়ে পড়বেন সেটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু বিরতি কাটিয়ে, যখন তিনি বেড়িয়ে এলেন জাতীয় স্টেডিয়ামের ট্যানেল থেকে, তখন তার চোয়াল জুড়ে সেই চিরচেনা অমায়িক হাসি। সেই হাসি চোখের পলকে পরিণত হল গোলের আনন্দে।

এ কি আর যেন তেন গোল? এ যেন বিশ্বসেরা গোল। চোখের পলকে জুভেন্টাসের বিপক্ষে করা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ফেমাস বাইসাইকেল গোল ভেসে উঠল। অবচেতন মনে লিভারপুলের বিরুদ্ধে করা গ্যারেথ বেলের বাইসাইকেলের দৃশ্য চলে এলো। হামজা চৌধুরী ডি-বক্সের ভেতরে সেই গোলগুলোর অবিকল চিত্র অঙ্কন করলেন।

৪৬ মিনিটের মাথায় ম্যাচে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। কিন্তু হামজা তো এক দুর্বার শক্তি। হামজা শব্দের অর্থ সিংহ, সেই সিংহ রুপে তিনিই বনে গেলেন দলের জয়ের কারিগর। রাকিব হোসেনের আদায় করা পেনাল্টিতে, ঠান্ডা মাথায় পানেনকা শট হামজা। জিয়ানলুইজি বুফনের স্মৃতিতে জিনেদিন জিদানের যে গোলটা এখনও উজ্জ্বল, ঠিক তেমন এক গোলই আদায় করলেন বাংলাদেশের সিংহ।

এক ম্যাচে দুই বিশ্বমানের গোল। বাংলাদেশের জার্সিতে, বাংলাদেশের মাটিতে- এ যেন অলিক স্বপ্ন। হামজা সেই অবাস্তবকেই চোখের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছেন। অবশ্য তিনি তো স্বপ্ন বাস্তব করার অন্যতম কারিগর। র‍্যাংকিংয়ের তলানির একটা দলে তিনি খেলবেন সেটাই তো ছিলেন স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তব করেছেন তিনি নিজে এসে। এবার বিশ্বমানের গোলের কল্পনাকেও ধরায় নামিয়ে নিয়ে এলেন।

তিনি কতদূর যাবেন এই দলকে নিয়ে- সেটা বলা অবশ্য কষ্টকর। তবে স্বপ্নদ্রষ্টা হয়ে তিনি যে আরও বহুকিছুকে বাস্তবসম্মত করবেন, সে বার্তা তো তিনি দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তার মুখের ঐ বিস্তৃতি হাসি প্রতিবারই তো বাংলার মাঠ-ঘাটে দিয়ে যাচ্ছে নবান্নের আনন্দ, শরতের শীতল স্রোত।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link