শরীরটা অর্ধেক, বিষ পুরোটাই

আরেকটাবার কি হাসরাঙ্গার হিংস্র থাবায় পুড়বে বাংলাদেশের ভাগ্য? কেবলই সময়ই দেবে এই প্রশ্নের জবাব।

প্রেমাদাসার নেটে এক টানা বোলিং করেন। তবে, বেশ বেগ পেতে হল। একটা করে বল করছেন, ফিরে যাচ্ছেন চেয়ারে। একটু পর পর হাঁটু গেড়ে উবু হচ্ছেন। ক্রমাগত হাঁপাচ্ছেন।

কলম্বোর আবহাওয়ার যে দশা সেখানে আক্ষরিক অর্থে লঙ্কানদের মানিয়ে নিতেও কষ্ট হয়, আর ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা তো আর দলের সবচেয়ে ফিট কেউ নন। বরং, তাঁর ফিটনেস নিয়ে ‍বিস্তর সমালোচনাও আছে।

ফিটনেস জনিত ইস্যুতে বড় বড় আসর তিনি মিস করেন হরহামেশাই। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি, দীর্ঘস্থায়ী গোড়ালির ব্যাথা – এটা ওটা তাঁর ক্রিকেটীয় জীবনে লেগেই আছে।

গোড়ালির ইনজুরির জন্য ২০২৪ সালের আইপিএল খেলতে পারেননি। ২০২৩ সালের ওযানডে বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির জন্য।

হাসারাঙ্গা কখনওই নিজের ফিটনেস নিয়ে চিন্তিত নন। তিনি এসবের ধার কখনও ধারেন না। তিনি শরীরের চেয়ে বেশি খেলেন হৃদয় দিয়ে। যদিও, হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে তাঁকে প্রায়ই ভোগায়। বাঁম-পায়ের ব্যাথাটা বারবার ফিরে ফিরে আসে। শ্রীলঙ্কান দলের এই সেট আপটা ঠিক ফিটনেস-ফ্রিক না।

ফলে, হাসারাঙ্গার শরীর-স্বাস্থ্যও ঠিক ক্রিকেটার-সুলভ নয়। তবে, সেটা যাই হোক, যখনই মাঠে নামেন নিজেকে উজাড় করে দিয়ে খেলেন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচের নায়ক তিনি। প্রেমাদাসায় প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ১০ রান দিয়ে নেন চার উইকেট। ব্যাটিংয়েও খেলেন কার্যকর ইনিংস, দ্বিতীয় ম্যাচেও কি মোমেন্টাম নিজের পক্ষে আনবেন তিনি?

উত্তর জানাবে সময়, তবে এটা ঠিক যে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের এই মুহূর্তে সবচেয়ে কার্যকর ক্রিকেটার হলেন হাসারাঙ্গা। বাংলাদেশের বিপক্ষেও দারুণ সফল তিনি। ১৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি, মাত্র নয় ম্যাচ খেলে। আরেকটাবার কি হাসরাঙ্গার হিংস্র থাবায় পুড়বে বাংলাদেশের ভাগ্য? কেবলই সময়ই দেবে এই প্রশ্নের জবাব।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link