চেন্নাই-হায়দ্রাবাদ ডুবল কোথায়?

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের এবারের মৌসুমে চেন্নাই সুপার কিংস এবং সানরাইজার্স  হায়দ্রাবাদ-এর পারফরম্যান্স প্রচণ্ড হতাশাজনক। গত কয়েক মৌসুমে ধারাবাহিক সফলতা দেখিয়ে আসা দুই দল, এবারের আসরে যেন খুঁজে ফিরছে নিজেদের। তাই তো প্রশ্ন উঠেছে —কোথায় ভুল করলো এই দুই দল?

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের এবারের মৌসুমে চেন্নাই সুপার কিংস এবং সানরাইজার্স  হায়দ্রাবাদ-এর পারফরম্যান্স প্রচণ্ড হতাশাজনক। গত কয়েক মৌসুমে ধারাবাহিক সফলতা দেখিয়ে আসা দুই দল, এবারের আসরে যেন খুঁজে ফিরছে নিজেদের। তাই তো প্রশ্ন উঠেছে —কোথায় ভুল করলো এই দুই দল?

৯ ম্যাচ শেষে হায়দ্রাবাদ তিনটি এবং চেন্নাই মাত্র দু’টি করে জয় পেয়েছে। তাই তো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের প্লে-অফের স্বপ্নও। হাইপ্রোফাইল প্লেয়ার নিয়ে এমন দশা মেনে নিতে পারছেন না ভক্তরাও।

তাদের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ ব্যাটিং বিভাগের মারাত্মক ব্যর্থতা। চেন্নাইয়ের হয়ে নিয়মিত খেলছেন এমন ব্যাটারদের মধ্যে কেবল মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং ঋতুরাজ গায়কড় স্ট্রাইক রেটে কিছুটা ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন। বাকিদের স্ট্রাইক রেট ১৩৫-এর নিচে, যা আধুনিক টি-টোয়েন্টির জন্য একেবারেই মানানসই নয়।

শিভাম দুবে, রাচিন রবীন্দ্র কিংবা রাহুল ত্রিপাঠির মতো খেলোয়াড়রা বারবার ব্যর্থ হয়েছেন দায়িত্ব নিতে। এমনকি দীপক হুদার নামের পাশেও যোগ হয়েছে বড় শূন্যতা।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদের গল্পও খুব একটা ভিন্ন নয়। হেনরিখ ক্লাসেন কিছুটা চেষ্টা করেছেন, তবে ট্রাভিস হেড, অভিষেক শর্মা কিংবা ইশান কিশানদের ব্যাটে ছিলো না ধারাবাহিকতা। তাদের মধ্যে অধিকাংশই পুরো টুর্নামেন্টে এক-দু’টি ইনিংস ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান রাখতে পারেননি।

দলের ব্যর্থতার আরেকটি বড় কারণ ছিল দল গঠনের সময় ভুল সিদ্ধান্ত। ক্লাসেনকে ২৩ কোটি টাকায় রিটেইন করে এবং প্যাট কামিন্সের জন্য ১৮ কোটি, ট্রাভিস হেড এবং অভিষেক শর্মার জন্য ১৪ কোটি করে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে হায়দ্রাবাদ।

ফলাফল, নিলাম থেকে নতুন মুখ যুক্ত করার সুযোগ কমে যায়। চেন্নাই সুপার কিংস পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ব্যর্থ হয়েছে তাদের মিডল অর্ডারের জন্য। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মিডল অর্ডার বড় ভূমিকা পালন করে। দলের ভীত গড়ে দেওয়া এই পজিশনে চেন্নাইয়ের নির্ভরযোগ্য কেউ নেই।

বোলিং বিভাগেও রয়েছে সমস্যা। চেন্নাইয়ের পক্ষে নূর আহমেদ ও খালিল আহমেদ ধারাবাহিক পারফর্ম করলেও, রবীন্দ্র জাদেজা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো অভিজ্ঞরা হতাশ করেছেন। অপরদিকে, সানরাইজার্সের পক্ষে একমাত্র হার্শাল প্যাটেল কিছুটা আলোর মুখ দেখাতে পেরেছেন। মোহাম্মদ শামি, প্যাট কামিন্স, হার্শাল প্যাটেলদের মতো বোলাররা নিয়মিত রান দিয়েও উইকেট তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বাজে রিটেনশন, ব্যাটারদের ফর্মহীনতা ও বোলারদের অনিয়মিত পারফরম্যান্স মিলিয়েই আইপিএল ২০২৫-এ চেন্নাই এবং হায়দরাবাদের-এর এমন ভরাডুবি। পরের মেগা নিলামে তারা নিশ্চয়ই পরিকল্পনার ছকটা নতুন করে গড়ে নিতে চাইবে। ভাগ্যের সাথে নিশ্চয়ই বুদ্ধিমত্তাও চাই শিরোপা জিততে।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link