বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এখন তাওহীদ হৃদয়। একটা সময় যিনি স্টারবয় তকমা পেয়েছিলেন, সেই তিনিই এখন যেন দলের বোঝা। ২০২৫ সালে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংকটের নাম এখন তাওহীদ হৃদয়। এর ধারাবাহিকতা থাকলে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও।
যখন ক্রিজে আসেন বাংলাদেশের রানরেট ছিল ১২-এর ঘরে। এমন পরিস্থিতি চায় সাহসী মানসিকতা, ঝুঁকি নিয়ে চালিয়ে যাওয়ার মনোভাব। কিন্তু হৃদয় যেন নিজেকে আরও গুটিয়ে নিলেন। ১৪ বলে ৯ রান করলেন — শেকল ভাঙতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিলেন। যে সময়ে ঝড় তোলার কথা ছিল, সেই সময়ে তিনি খেলে গেলেন নেতিবাচক ক্রিকেট।। হৃদয়ের এই ইনিংসটাই নেদারল্যান্ডসকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে।
প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগ পাননি হৃদয়। কিন্তু, মাঠে যতক্ষণ ছিলেন প্রভাব রাখতে পারেননি। বরং ঢিলেঢালা ফিল্ডিং, শিশুতোষ ভুলে তাঁর দক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বাারবার। তৃতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে নেমে চূড়ান্ত ব্যর্থ হলেন।

এটা চলতি বছরে হৃদয়ের নিয়মিত দৃশ্য। চলতি বছরের ১২ টি টি-টোয়েন্টি ইনিংসে করেছেন ২২৫ রান, স্ট্রাইক রেট ১১০.৮৩। এ বছরে ১০ ম্যাচের বেশি খেলা বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে এটাই সর্বনিম্ন। স্ট্রাইক রেট হয়ে উঠেছে দলের জন্য অস্বস্তির কারণ।
এই জায়গায় দাঁড়িয়ে একটা প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঁকি দেয়—এশিয়া কাপে নম্বর চার কি সত্যিই হৃদয়ের জন্য নির্ধারিত? নাকি সেই জায়গাটা দাবি করছেন সাইফ হাসান? সাইফের সাম্প্রতিক ফর্ম, টেম্পারামেন্ট, এবং সুযোগকে কাজে লাগানোর ক্ষুধা—সবকিছুই তাঁকে এগিয়ে রাখে। আর হৃদয় যেন নিজের কবর নিজেই খুঁড়ে চলেছেন, প্রতিটি ইনিংসে ব্যর্থ হওয়ার মধ্য দিয়ে।
হৃদয়ের ফর্মের যে হাল, তাতে চার নম্বরের মত গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে তাঁর ব্যাক আপ হিসেবে থাকারও সুযোগ নেই। এশিয়া কাপে কোনো ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ নেই। সেখানে হৃদয় যদি বারবার নেতিবাচক শরীরী ভাষা আর টালমাটাল ব্যাটিং উপহার দেন, তাহলে বাংলাদেশের স্বপ্ন উবে যেতে সময় লাগবে না।











