২০০৭ সালে অবসরে যাই, এরপরই টি-টোয়েন্টি জনপ্রিয় হয়: উপুল চন্দনা

ক্ষুদে এক ভক্ত এগিয়ে এলেন, জার্সিতে সাইন নিলেন। সাথে তাঁর বাবা। শিশুটি যাওয়ার সময় পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিলেন। শিশুটি হয়তো খুব বেশি জানে না, তবে তাঁর বাবা নিশ্চয়ই জানেন উপুল চন্দনা কি জিনিস!

ক্ষুদে এক ভক্ত এগিয়ে এলেন, জার্সিতে সাইন নিলেন। সাথে তাঁর বাবা। শিশুটি যাওয়ার সময় পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিলেন। শিশুটি হয়তো খুব বেশি জানে না, তবে তাঁর বাবা নিশ্চয়ই জানেন উপুল চন্দনা কি জিনিস!

দক্ষ লেগ স্পিনার, লেগ ব্রেক গুগলিতে ছিলেন অসাধারণ। লোয়ার মিডল অর্ডারে কার্যকর সব ইনিংস খেলতেন, পাওয়ার হিটিং করতেন অনেকটা আজকের মতই! আর ফিল্ডিং তো ছিল ভূবন ভোলানো, নব্বই দশকে তাকে শ্রীলঙ্কা দলের জন্টি রোডস বললেও কম বলা হবে।

১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে একটাও ম্যাচ খেলেননি। তবে, প্রায় প্রতিটা ম্যাচে দলের হয়ে ফিল্ডিং করেছেন। ক্যারিয়ার শেষে তিনিই তাই শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ হওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য লোক। কলম্বোর রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মুখোমুখি হন খেলা ৭১-এর। সেখানেই উঠে আসে তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ারের নানা অধ্যায়।

১৯৯৬ বিশ্বকাপে তো আপনি ম্যাচ না খেললেও ফিল্ডিংয়ের জন্য বেশ জনপ্রিয় হয়েছিলেন?

– আমি কোনো ম্যাচ খেলিনি, সেটা ঠিক কিন্তু – কখনওই মনে হয়নি যে আমি ডাগ আউটে বসেছিলাম। প্রায় প্রতিটা ম্যাচেই আমি ফিল্ডিং করেছি। অর্জুনা রানাতুঙ্গা আমাকে ইনার সার্কেলে রাখতেন। একটা ম্যাচে সুযোগ ছিল। তবে, আমার মনে হয়েছে আমার চেয়ে কুমার ধর্মসেনা বেশি ডিজার্ভিং, ওকে সুযোগ দিতে বলি। উইনিং কম্বিনেশন ভাঙতে নিষেধ করি। ওই সময় আমাদের দলটা দারুণ ছিল, আমাদের দেশের পরিস্থিতি ভাল ছিল না। অনেক বড় দল আসতে চাইছিল না, আমাদের ভাল খেলা দরকার ছিল।

সেই বিশ্বকাপে ভারতের ইডেন গার্ডেন্সে দর্শকরা তো অনেক পাগলাটে আচরণ করছিল। আপনি তো তখন মাঠেই?

– তখন মাঠেই ছিলাম। আমি ইনার সার্কেলে ছিলেন। আমি অর্জুনাকে বলি বাউন্ডারি লাইন থেকে অরবিন্দ ডি সিলভাকে সরিয়ে আমাকে রাখতে। আমার মনে হয়েছিল, আমার কিছু হলে আমি তো রিকভার করার জন্য সময় পাবো। কিন্তু, দু’দিন পর ফাইনাল – অরবিন্দকে ছাড়া খেলার কথা আমি কল্পনাও করতে পারি না।

নব্বই দশকে আপনি বাংলাদেশে খেলেছেন, কোন দলের হয়ে, মনে আছে তো?

– হ্যাঁ, খেলেছি তো। মনে আছে (একটু মাথা চুলকে বললেন) মোহামেডান। খুব অল্প সময়ের জন্য খেলেছিলাম যদিও। ওই সময়ে বাংলাদেশের অবকাঠামো তেমন ভাল ছিল না। খুব বেশি একটা মাঠ ছিল না। তবে, ওই সময় দারুণ কিছু খেলোয়াড় ছিলেন। আমার কাছে মনে হয়েছিল, এই দলটার প্রতিভা আছে। আমি জানতাম, বাংলাদেশ দল ভবিষ্যতে ভাল খেলবে।

 আপনি বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছেন। এখন কোচ হিসেবেও প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। দুই সময়ের পার্থক্যটা আপনার চোখে কেমন?

– দু’টো সময় ভিন্ন। বাংলাদেশ একটা বড় সময় পার করে এসেছে। এখন হয়তো তাঁদের সময়টা ভাল যাচ্ছে না। সেটা হতেই পারে। এরকম সময়ের মধ্য দিয়ে আমরা গিয়েছি। মাহেলা-সাঙ্গারা এক সাথে চলে গিয়েছিল। আমরা ফিরে এসেছি, ভাল করেছি। বাংলাদেশও করবে। তিন-চার বাংলাদেশি সিনিয়র কিন্তু মাত্রই অবসরে গেল।

এখন যারা খেলছে তাঁদের কিছুটা সময় দিতে হবে। একটু অভিজ্ঞতা আসলেই দলটা জ্বলে উঠবে। এই দলটা ভাল, দলে বেশ শীর্ষ মানের বেশ কয়েকজন পেসার আছেন। ভাল স্পিনার আছে। ওদের শুধু আরেকটু ভাল ব্যাটিং করতে হবে।

আপনি তো লোয়ার অর্ডারে দারুণ ব্যাটিং করতেন, সাথে লেগ স্পিনার, দুর্দান্ত ফিল্ডার! টি-টোয়েন্টি খেলতে পারলে তো সুপারস্টার বনে যেতেন। টি-টোয়েন্টি না খেলতে পারার আক্ষেপ হয়?

– হ্যা, (মুখে বিরাট হাসি) টি-টোয়েন্টি না খেলতে পারার বিরাট আক্ষেপ হয়। আমি অবসরে যাই ২০০৭ সালে, এরপরই টি-টোয়েন্টির দুনিয়া জমজমাট হয়ে ওঠে। ওই ফরম্যাটটা খেলতে পারলে দারুণ একটা ব্যাপার হত।

বলা হয়, শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের অন্যতম সেরা লেগ স্পিনার হওয়ার পরও মুত্তিয়া মুরালিধরণের জন্য ক্যারিয়ার বড় হয়নি আপনার?

– হ্যাঁ, আমি নিয়মিত খেলার সুযোগ পাইনি। দলের ভারসাম্য রক্ষার জন্য আমাকে বাইরে রাখা হত। ১৯৯৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত খেলেছি। কিন্তু, আমি ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচও খেলার সুযোগ পাইনি। তবে, যখনই জাতীয় দলকে যতটুকু দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি, নিজেকে উজার করে দিয়েছি।

আবার বর্তমান সময়ে আসি, শ্রীলঙ্কা দল তো নিজেদের দু:সময় কাটিয়ে ফেলেছে। সেখানে আপনার নিজেরও ভূমিকা আছে, কোচিংটা কেমন উপভোগ করছেন?

– আমাদের দল এখন খুব ব্যালান্সড। কোচিং আমার ভাল লাগে। ২০১০ সালে অনূর্ধ্ব ১৯ দলের কোচ ছিলাম। ওই সময়ে অনেক খেলোয়ড় আমার আন্ডারে খেলেছে, যারা এখন জাতীয় দলে খেলে। ফলে দলটার সাথে আমার বোঝাপড়া দারুণ। ওরা সবাই ভাল করছে, দারুণ মানিয়ে নিয়েছে। আর সনাথ জয়াসুরিয়ার ক্রিকেট বোধ দারুণ। ওর অভিজ্ঞতা দলে খুব কাজে আসে।

– চন্দনা আপনাকে ধন্যবাদ।

– আপনাকেও, কোভিডের আগে আমার ‘চন্দনা স্পোর্টস’ নামের একটা ব্যবসা ছিল আমার। স্পোর্টসের সামগ্রী বিক্রি হত। ওটা আবার শুরু করব। শ্রীলঙ্কায় আবার আসলে ঘুরে যাবেন।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link