অজিদের ক্লাসে সেরা ছাত্র স্মিথ!

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে সেন্ট জর্জেসের কঠিন পিচ যখন অস্ট্রেলিয়ার অগ্নিপরীক্ষা নিতে ব্যস্ত, স্টিভ স্মিথ যেন তখন ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র। অন্যরা যখন ক্যারিবীয় বোলারদের ছুড়ে দেওয়া প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না, স্মিথ সেখানে প্লাস মার্ক তুলে নিলেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে সেন্ট জর্জেসের কঠিন পিচ যখন অস্ট্রেলিয়ার অগ্নিপরীক্ষা নিতে ব্যস্ত, স্টিভ স্মিথ যেন তখন ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র। অন্যরা যখন ক্যারিবীয় বোলারদের ছুড়ে দেওয়া প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না, স্মিথ সেখানে প্লাস মার্ক তুলে নিলেন।

দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল জায়ডেন সেলস। শূন্য রানে কন্সটান্সকে ফেরানোর পর, দলীয় চার রানের মাথায় উসমান খাজাকেও থামিয়ে দেন তিনি। ১২ রানে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।

তৃতীয় দিনের সকালটাও শুরু সেখান থেকে।নাইটওয়াচম্যান নাথান লায়নের বিদায়ের পর স্কোরবোর্ডে রান দাঁড়ায় ২৮ রানে তিন উইকেট। তখন ক্রিজে আসেন স্টিভ স্মিথ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পাওয়া আঙুলের চোটে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে বেশ কিছুদিন। ফিরে এসে প্রথম ইনিংসে ৩ রানের বেশি করতে পারেননি।

এদিন নিজের খেলা দ্বিতীয় বলেই আলজারি জোসেফের একটি ডেলিভারি গিয়ে আঘাত করল সেই চোট পাওয়া আঙুলেই। ব্যথায় কুঁকড়ে গেলেও বেশিক্ষণ ব্যথাটাকে পাত্তা দিলেন না স্মিথ। উইকেটের আচরণকে মাথায় রেখে ধৈর্য, কৌশল আর অভিজ্ঞতা দিয়ে ইনিংস গড়ার কাজে লেগে পড়েন। সেন্ট জর্জেসের উইকেট যেন ব্যাটারদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে, সমস্ত প্রেম সপেছে পেসারদের হাতে।

স্মিথ যেন একপ্রকার জোর করে ভালোবাসা আদায় করলেন। একপ্রান্ত আগলে রেখে নিজস্ব স্বভাবজাত ভঙ্গিমায় ৭৯ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেললেন। প্রথমে গ্রীন এবং এরপর ট্রাভিস হেডকে সাথে নিয়ে গড়েন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। বিপদ কাটিয়ে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে লিড।

অবশেষে ৭১ রানে থামেন স্মিথ। জাস্টিন গ্রেভসের এক দুর্দান্ত ইনসুইংয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে যান তিনি। তাঁর এই ৭১ রানের ইনিংসটি অঙ্কের হিসেবে অনেকের কাছে নেহাত অতি সাধারণ মনে হতে পারে।

কিন্তু ইনিংসের পরিসংখ্যান যতটুকু বলছে, বাস্তবতা তার চেয়েও গভীর। উইকেটের অবস্থা তখন এমন যে বল নিচু হয়ে আসছে হরহামেশা, আবার কখনও গতির সাথে বাউন্সের মিশেলে ব্যাটারদের বিপদের শেষ নেই।

তবে স্মিথ সবকিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে খেললেন নিজের মতো করে। সলিড একটা ইনিংসের মাধ্যমে প্রমাণ করলেন কেন তিনি অজিদের ক্লাসের সবচেয়ে সেরা ছাত্র, কেন তিনি সেরাদের সেরা!

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link