বাংলাদেশ যদি না যায়, ভারতের লোকসানের পরিমাণ কত হবে!

বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ। নিজদের এমন সিদ্ধান্তে অটল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড(বিসিবি)। আর তাতেই আঘাত লেগেছে ভারতের সম্মানেও। শুধু তাই নয় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে দেশটির।

বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ। নিজদের এমন সিদ্ধান্তে অটল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড(বিসিবি)। আর তাতেই আঘাত লেগেছে ভারতের সম্মানেও। শুধু তাই নয় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে দেশটির।

গ্রুপ পর্বের সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ দলের তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেনে, এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ছিল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে।

ইডেন গার্ডেনে এক ম্যাচে দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৩ হাজার। তিন ম্যাচ মিলিয়ে সেখানে মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৮৯ হাজার। অন্যদিকে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে এক ম্যাচে দর্শক বসতে পারেন প্রায় ৩৩ হাজার। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ দলের চারটি ম্যাচে ভারতের  হাতে ছিল আনুমানিক ২ লাখ ২২ হাজার টিকিট।

বিশ্বকাপে দিন ঘনিয়ে আসছে, আইসিসি তাই টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। সেখানে বাংলাদেশ এবং ইতালি ম্যাচের জন্য সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ রুপি, নেপাল ম্যাচের জন্য ২৫০, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ইংল্যান্ড ম্যাচের জন্য ৩০০ রুপি করা হয়। এই ম্যাচ গুলো স্থানান্তরিত হয়ে শ্রীলঙ্কায় গেলে টিকিট বিক্রির আয় তাই কমে যাবে অনেকটা।

এখন যদি শুধুমাত্র সর্বনিম্ন টিকিট মূল্যের হিসাব ধরা হয়, তাহলেও অঙ্কটা কম নয়। ইডেনের তিন ম্যাচে যদি গড় সর্বনিম্ন দাম ২৫০ রুপি ধরা হয়, তাহলে ১ লাখ ৮৯ হাজার টিকিট থেকে সম্ভাব্য আয় দাঁড়ায় প্রায় ৪ কোটি ৭২ লাখ রুপি। ওয়াংখেড়ের ম্যাচে ৩৩ হাজার টিকিট সর্বনিম্ন ২৫০ রুপি ধরলে আয় হয় আরও প্রায় ৮২ লাখ রুপি। সব মিলিয়ে কেবলমাত্র সর্বনিম্ন দামের হিসাবেই টিকিট বাজারের মোট অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৫ কোটি ৫৫ লাখ রুপি। তবে বাস্তবতা হলো, এই আয় আরও অনেক বেশি হওয়ার কথা। যা ছাড়াতে পারে ১০ কোটি রুপিরও বেশি।

তবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এই টিকিট বিক্রির টাকা কি সরাসরি বিসিসিআই পায়? উত্তর হচ্ছে, না। আইসিসির সঙ্গে ভারতের চুক্তি অনুযায়ী,  বিসিসিআই এখানে কেবল আয়োজকের ভূমিকা পালন করে। গেট মানি বা টিকিট বিক্রির পুরো অর্থ বিসিসিআইয়ের ঘরে যায় না।

তবুও বাংলাদেশ যদি ভারতে না যায়, তাহলে বিসিসিআইয়ের লোকসান একেবারেই শূন্য হবে না। ম্যাচ আয়োজন থেকে বিসিসিআই কাছে যায়   ম্যাচ-ডে উদ্বৃত্ত আয়, স্থানীয় স্পনসরশিপ, স্টেডিয়ামের হসপিটালিটি বক্স, খাবার ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে। চারটি ম্যাচ বাতিল বা স্থানান্তরিত হলে এই সব খাত থেকেই ভারতের ক্ষতি হতে পারে কয়েক কোটি রুপি।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ দলের চারটি ম্যাচ যদি ভারত থেকে সরে যায়, তাহলে ভারতের ক্রিকেট অর্থনীতিতে এটি কেবল সূচির পরিবর্তন নয়, এটি হবে সরাসরি আর্থিক ধাক্কা।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link